ঢাকা   সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ন্যাম ভবনে স্বামীর শয়নকক্ষের বারান্দায়ও ঘুমাতেন মরিয়ম: আদালতে পুলিশ

গ্রামবাংলা

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২০:০৯, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

ন্যাম ভবনে স্বামীর শয়নকক্ষের বারান্দায়ও ঘুমাতেন মরিয়ম: আদালতে পুলিশ

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে ন্যাম ভবনে তাঁর শয়নকক্ষের পাশের বারান্দায়ও ঘুমাতে হতো বলে আদালতকে জানিয়েছে পুলিশ। আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় গাজী নজরুলের কাছ থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার গাজী নজরুল ইসলামকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে গাজী নজরুল বলেছেন, মামলার বাদী ও মরিয়মের বাবা তাঁর আত্মীয় এবং সম্পর্কে ভাগনে। মরিয়ম তাঁর নাতনি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ঢাকায় এলে নজরুল ইসলাম বাদীর বাসায় রাতযাপন করতেন এবং সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। এভাবে মরিয়মের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও সখ্য গড়ে ওঠে এবং পরে তাঁরা বিয়ে করেন।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, গত ১৭ জুন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়মের বিয়ে হয়। পরে নিজ এলাকায় তাঁদের কাবিন রেজিস্ট্রি করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ন্যাম ভবনে গাজী নজরুল তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে নিয়ে বসবাস করতেন। সেখানে প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে থাকার সময় মরিয়ম মাঝেমধ্যে নজরুলের শয়নকক্ষের পাশের বারান্দায় ঘুমাতেন বলে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে গাজী নজরুল ইসলামের কাছ থেকে মামলার ঘটনার বিষয়ে ‘আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর স্বামী গাজী নজরুল ইসলামের বয়স ৭৫ বছর।

ঘটনার পর রাতে গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। একই রাতে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল, মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই দিন রাতেই মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর মাকছুদা বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পরে মামলার তৃতীয় আসামি মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে ঢাকার বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি–২। তাঁকেও আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ