ঢাকা   মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

বললেন স্পিকার

গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত পুলিশের পদক্ষেপের পর

রাজনীতি

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২১:১১, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত পুলিশের পদক্ষেপের পর

জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের এমপি পদ থাকবে কি না, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় পুলিশ কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, তা দেখার পর বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে জানতে চাইলে স্পিকার বলেন, শুধু কোনো রাজনৈতিক দল কাউকে বহিষ্কার করলেই তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয় না। তবে বর্তমান মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ কী ব্যবস্থা নেয়, সেটি দেখার পর নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হতে পারে। এরপর সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। আদালতের মাধ্যমেও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানান তিনি।

গত ২২ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যক্তিগত ভিডিওকে কেন্দ্র করে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। পরে দলটির পক্ষ থেকে স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়। তবে শুধু দলীয় বহিষ্কারের কারণে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়নি।

এর মধ্যে গত রোববার ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় গাজী নজরুলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে নেওয়ার পর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামেরও এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছিল। রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার মাকছুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, মামলাটির তদন্ত ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবি গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

সংবিধানে কী আছে

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ড হলে এবং কারাগার থেকে মুক্তির পর পাঁচ বছর না পেরোলে একজন ব্যক্তি সংসদ সদস্য হওয়ার বা পদে থাকার অযোগ্য হন।

তবে শুধু কোনো ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার বা রিমান্ডে যাওয়ার ফলে সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়—এমন বিধান নেই। গাজী নজরুলের ক্ষেত্রেও এখনো আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি; মামলাটি তদন্তাধীন।

অন্যদিকে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে অথবা দল থেকে পদত্যাগ করলে তাঁর সংসদীয় আসন শূন্য হবে। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর কোনো রাজনৈতিক দল কোনো সংসদ সদস্যকে বহিষ্কার করলে তাঁর আসন শূন্য হবে কি না, সে বিষয়ে ৭০ অনুচ্ছেদে সরাসরি কোনো বিধান নেই।

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য অযোগ্য হয়েছেন কি না, অথবা ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে তাঁর আসন শূন্য হয়েছে কি না—এ নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানোর বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে সংবিধানে উল্লেখ আছে।

কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে

জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের পর গাজী নজরুল ইসলামকে সংসদীয় কমিটিতে না রাখার জন্য দলটির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে দুটি সংসদীয় কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়।

তবে ৭ সেপ্টেম্বর সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটিতে তাঁর নাম রাখা হয়েছিল। পরে জামায়াতে ইসলামীর আপত্তির পর ওই কমিটি পুনর্গঠন করে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়।

এ নিয়ে সংসদে বিতর্কও হয়। সে সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, কোনো সংসদ সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলে শুধু সেই কারণে সংবিধান অনুযায়ী তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয় না। তিনি নিজে পদত্যাগ না করলে ৭০ অনুচ্ছেদের বিধানও প্রযোজ্য হয় না।

ফলে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে পরবর্তী অবস্থান নির্ভর করছে চলমান মামলার তদন্ত, পুলিশের পদক্ষেপ এবং পরবর্তী সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়ার ওপর।

সর্বশেষ