আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ জন্য সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আগামী নির্বাচন কোন সরকারের অধীনে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে।’
তিনি বলেন, আইনসভার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা তাঁদের আন্দোলনেরও অন্যতম লক্ষ্য ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরতে চান—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন আলোচনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তাঁরাও শুনেছেন। তবে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ভারত সরকারের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশ ভারতকে কয়েক দফায় চিঠি পাঠানো হয়েছে। শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট বলেও জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতেও সরকারবিরোধী তৎপরতা ও অপপ্রচারের ঘটনা ঘটেছে। পলাতক শক্তির কোনো অপতৎপরতা সরকার মেনে নেবে না।
তিনি বলেন, একটি পক্ষ দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করে পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাইতে পারে। তবে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে যাওয়া ব্যক্তিদের তৎপরতা নিয়েও সতর্ক অবস্থানের কথা তুলে ধরেন তিনি।
সংবিধান সংশোধনই মূল বিষয়
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আয়োজনের জন্য সংবিধান সংশোধন করে এ ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। ফলে নির্বাচনের আগে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার আইনি কাঠামো এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
























