ঢাকা   শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শেয়ারধারী কোম্পানির পরিচালক না হলে ব্যাংকে প্রতিনিধি পরিচালক নয়

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫৯, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

শেয়ারধারী কোম্পানির পরিচালক না হলে ব্যাংকে প্রতিনিধি পরিচালক নয়

কোনো শেয়ারধারী প্রতিষ্ঠানের হয়ে ব্যাংকের পর্ষদে প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেতে হলে এখন থেকে ওই ব্যক্তিকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অথবা পরিচালক হতে হবে। শুধু শেয়ারধারী কোম্পানির মনোনীত ব্যক্তি হলেই ব্যাংকের পর্ষদে প্রতিনিধি পরিচালক হওয়ার সুযোগ থাকছে না।

ব্যাংকের মালিকানা কাঠামোতে স্বচ্ছতা এবং পর্ষদে প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে জবাবদিহি বাড়াতে বৃহস্পতিবার এ নতুন বিধান চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে জারি করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আদেশে ব্যাংকের শেয়ার ধারণ ও শেয়ারধারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক নতুন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।

নতুন নিয়মে ব্যাংকের শেয়ার ধারণের ক্ষেত্রেও কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান তার প্রকৃত সম্পদমূল্যের (নেট অ্যাসেট ভ্যালু) বেশি মূল্যমানের ব্যাংক শেয়ার এককভাবে কিংবা একাধিক ব্যাংকে মিলিয়ে রাখতে বা নতুন করে কিনতে পারবে না।

অর্থাৎ কোনো কোম্পানির প্রকৃত সম্পদমূল্য যদি ১০০ কোটি টাকা হয়, তাহলে দেশের এক বা একাধিক ব্যাংকে ওই কোম্পানির হাতে থাকা শেয়ারের মোট মূল্য ১০০ কোটি টাকার বেশি হতে পারবে না। নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত শেয়ার বর্তমানে কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকলে তা কমানোর জন্য ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে।

যেমন, ১০০ কোটি টাকা প্রকৃত সম্পদমূল্যের কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে যদি বিভিন্ন ব্যাংকের মোট ১৫০ কোটি টাকার শেয়ার থাকে, তাহলে ছয় মাসের মধ্যে ৫০ কোটি টাকার সমপরিমাণ শেয়ার বিক্রি অথবা অন্য কোনো উপায়ে কমিয়ে নির্ধারিত সীমার মধ্যে আনতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একাধিক ব্যাংকের শেয়ার রেখে মনোনীত পরিচালকের মাধ্যমে একাধিক ব্যাংকের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে। এ ধরনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ কমানোর পাশাপাশি আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যেই নতুন বিধান আনা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনায় প্রতিনিধি পরিচালকদের যোগ্যতা ও দায়িত্বের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো শেয়ারধারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ব্যাংকের পর্ষদে কাউকে পাঠাতে হলে ওই ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি পরিচালনাগত সম্পর্ক থাকতে হবে। সে কারণেই প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে মনোনীত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এমডি বা পরিচালকের পদে থাকার শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, অতীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকের শেয়ার সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পক্ষে অন্য ব্যক্তিদের ব্যাংকের পর্ষদে বসানোর নজির রয়েছে। এর ফলে শেয়ারধারী প্রতিষ্ঠানগুলো পর্ষদে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়ে ব্যাংকের পরিচালনায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েছে।

এর একটি বড় উদাহরণ হিসেবে চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকসহ সাতটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকের শেয়ার কেনার পর সেসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করতে একাধিক ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পর্ষদে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এসব পর্ষদ থেকে এস আলমের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ঋণ অনুমোদনের ঘটনাও ঘটে। এসব ঋণের বড় একটি অংশ পরবর্তীতে খেলাপিতে পরিণত হলেও প্রতিনিধি পরিচালকদের পক্ষ থেকে দায় নেওয়ার বিষয়টি দেখা যায়নি।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালকদের জন্য অবশ্য আলাদা বিধান রয়েছে। তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির পরিচালক হতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওই কোম্পানিতে অন্তত ২ শতাংশ শেয়ার থাকার নিয়ম রয়েছে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের মনোনীত প্রতিনিধি পরিচালক হওয়ার ক্ষেত্রে এতদিন একই ধরনের শেয়ারধারণের শর্ত ছিল না। নতুন বিধানে ব্যাংকের শেয়ারধারী কোম্পানির প্রতিনিধি পরিচালকের ক্ষেত্রে কোম্পানির এমডি বা পরিচালক হওয়ার বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হলো।

তবে সব ব্যাংকের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, ব্র্যাক ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক ও ট্রাস্ট ব্যাংকের প্রতিনিধি পরিচালক নিয়োগে নতুন বিধানটি প্রযোজ্য হবে না। এসব ব্যাংকের মালিকানায় মুনাফাবিহীন প্রতিষ্ঠান বা ট্রাস্টের অংশগ্রহণ বেশি থাকায় ব্যাংকগুলো অনুমোদনের সময় থেকেই নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় পেয়ে আসছে। সেই কারণে নতুন শর্ত থেকেও ব্যাংকগুলোকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, নতুন বিধান কার্যকর হলে ব্যাংকের মালিকানায় কোনো একক কোম্পানির অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তারের সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে শেয়ারধারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে পর্ষদে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও বাড়বে।

সর্বশেষ