ঢাকা   সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

তেলের দাম কমেছে, ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার

তেলের দাম কমেছে, ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। শুক্রবার ব্যারেলপ্রতি দাম ১১৭ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর সোমবার কমেছে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দর। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, তেল সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সোমবার দিনের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ১৮ সেন্টে নেমে আসে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলার ৪১ সেন্টে দাঁড়ায়।

এর আগে শুক্রবার তেলের দাম গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে পারেন—এমন আশঙ্কা তেলের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা এবং অপরিশোধিত তেলের মজুত কমে যাওয়ায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঊর্ধ্বমুখী ছিল জ্বালানি তেলের বাজার।

রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হবে, নাকি তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

এদিকে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনার জন্য সোমবার তেহরানে গেছেন সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপসচিব আলী বাঘেরি কানি আশা প্রকাশ করেছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতি প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হতে পারে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ এখনো কাটেনি। গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজে হামলা বাড়িয়েছে ইরান। একই সময়ে সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের হামলা বৃদ্ধির কারণে দেশটি থেকে কিছু কূটনৈতিক কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান বার্কলেসের বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবে হুতিদের হামলা বৃদ্ধি, তেলবাহী জাহাজে অব্যাহত আক্রমণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর দেশটির প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এসব কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির প্রভাব বাড়ছে।

এদিকে, ২০২৭ সালের এপ্রিল মাসে সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের আগাম চুক্তির দাম সোমবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সামান্য নিচে ছিল। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ভবিষ্যতেও জ্বালানি তেলের দাম তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা।

সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সাময়িকভাবে কমলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের কারণে বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।