ঢাকা   সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

আয়কর রিটার্ন না দিলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসহ ৫ ধরনের শাস্তি

অর্থ ও বাণিজ্য

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১২:২৭, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

আয়কর রিটার্ন না দিলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসহ ৫ ধরনের শাস্তি

আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে জরিমানা, কর ছাড়ের সুবিধা হারানোসহ বিভিন্ন ধরনের জটিলতায় পড়তে পারেন করদাতারা। এমনকি আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মতো রাষ্ট্রীয় পরিষেবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থাও রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হলে করদাতাকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে। এ ছাড়া বিলম্বের সময় বাড়লে অতিরিক্ত জরিমানার ঝুঁকিও রয়েছে।

দেশে বর্তমানে সোয়া এক কোটির বেশি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএনধারী) রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বছরে প্রায় ৫০ লাখ করদাতা আয়কর রিটার্ন জমা দেন। বাকি প্রায় ৭৫ লাখের রিটার্ন না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন।

তবে সব টিআইএনধারীর জন্য একইভাবে রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য নয়। করযোগ্য আয় থাকা এবং আইন অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের নির্ধারিত নিয়ম মেনে রিটার্ন দিতে হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও রিটার্ন জমার প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে।

রিটার্ন না দিলে যেসব শাস্তির মুখে পড়তে পারেন

আয়কর আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা না দিলে করদাতাদের পাঁচ ধরনের আর্থিক ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে।

১. সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

নির্ধারিত সময়ে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হলে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৬৬ ধারায় জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্তে করদাতার সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর ধার্য করের ১০ শতাংশ হারে জরিমানা করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম জরিমানা ১ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা হতে পারে।

এ ছাড়া রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিনের জন্য অতিরিক্ত জরিমানার বিধানও রয়েছে। নির্দিষ্ট তদন্তের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় রিটার্ন বা তথ্য দিতে ব্যর্থ হলেও জরিমানার মুখে পড়তে পারেন করদাতা।

২. কর ছাড়ের সুবিধা হারানোর ঝুঁকি

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলে কিছু ক্ষেত্রে কর অব্যাহতি বা কর ছাড়ের সুবিধা পাওয়া সীমিত হয়ে যেতে পারে।

সঞ্চয়পত্রসহ সরকার নির্ধারিত বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের বিপরীতে কর রেয়াত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন ও শর্ত পূরণ করতে হয়। সময়মতো রিটার্ন জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট কর রেয়াতের সুবিধা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

৩. অতিরিক্ত করের বোঝা

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে রিটার্ন জমা দিলে অতিরিক্ত কর বা আর্থিক দায় তৈরি হতে পারে। বিলম্বের ক্ষেত্রে কী হারে কর বা জরিমানা প্রযোজ্য হবে, তা সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান, করদাতার পরিস্থিতি এবং রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়ের ওপর নির্ভর করে।

তাই অতিরিক্ত আর্থিক দায় এড়াতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

৪. গ্যাস-বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে

আয়কর রিটার্ন জমা না দেওয়ার ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কর কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় পরিষেবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থাও থাকতে পারে।

শুধু ব্যক্তিগত আবাসন নয়, নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা শিল্পকারখানার ক্ষেত্রেও এ ধরনের ব্যবস্থা প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি স্বয়ংক্রিয় নয়; সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান ও প্রযোজ্য প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।

৫. বেতন-ভাতা ও বিভিন্ন সেবা পেতে জটিলতা

নির্দিষ্ট শ্রেণির সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীর ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া এবং তার প্রমাণ দাখিল করা বাধ্যতামূলক হতে পারে। বিশেষ করে নির্ধারিত পদমর্যাদা বা বেতনসীমার কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।

ফলে প্রয়োজনীয় রিটার্ন জমার প্রমাণ দিতে না পারলে কর্মক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। একইভাবে যেসব সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে রিটার্ন জমার প্রমাণ প্রয়োজন, সেসব সেবা পেতেও সমস্যায় পড়তে পারেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।

কখন রিটার্ন জমা দেবেন?

আয়কর রিটার্ন জমার সময়সীমা ও বিলম্বজনিত আর্থিক দায় নির্ধারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জরিমানা, কর রেয়াতের সুবিধা হারানো কিংবা অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

করদাতার ধরন, প্রযোজ্য করবর্ষ এবং এনবিআরের সময়সীমা বৃদ্ধির কোনো সিদ্ধান্ত রয়েছে কি না—এসব বিষয় বিবেচনা করে রিটার্ন জমার শেষ তারিখ নিশ্চিত করা উচিত।

সব মিলিয়ে, আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলে সময়মতো তা দাখিল করা করদাতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এতে সম্ভাব্য জরিমানা ও প্রশাসনিক জটিলতা এড়ানোর পাশাপাশি প্রযোজ্য কর সুবিধা পাওয়ার সুযোগও বজায় থাকে।

সর্বশেষ