দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েও আবারও দরপতনের চাপে দেশের শেয়ারবাজার। ধারাবাহিক উত্থানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ৬ হাজার পয়েন্টের কাছাকাছি পৌঁছালেও এখন তা আবার নিম্নমুখী। বাজারসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দরপতনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে সূচক ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের কার্যকর ও ইতিবাচক সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা করছেন বিনিয়োগকারী ও বাজারসংশ্লিষ্টরা।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, শেয়ারবাজারকে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করার প্রত্যাশায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার কমিশন পরিবর্তন করে নতুন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই উদ্যোগের প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যায়নি। বরং বাজার পরিস্থিতির উন্নতির পরিবর্তে ধারাবাহিক দরপতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ বাড়ছে।
তাঁদের অভিযোগ, বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে। ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা ও বাজার তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের হস্তক্ষেপে বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ধারাবাহিক দরপতনের প্রতিবাদে বিনিয়োগকারীরা ইতিমধ্যে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। তাঁদের একটি অংশ বর্তমান কমিশনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, কমিশন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যে উন্নত, স্থিতিশীল ও শক্তিশালী বাজারের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি।
তাঁদের বক্তব্য, বাজারের এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে কমিশনের দায়িত্ব ও ভূমিকা পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। এমনকি বর্তমান কমিশনের সদস্যদের পদত্যাগের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার মত দিয়েছেন কেউ কেউ। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট আরও গভীর হবে।
ডিএসইতে সূচক কমেছে ৩৩ পয়েন্ট, লেনদেনও নিম্নমুখী
এদিকে, সোমবার (২৬ অক্টোবর) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের পাশাপাশি টাকার অঙ্কে লেনদেনও কমেছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩৯৯ দশমিক ৫৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ৭ দশমিক ২৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৫৩ দশমিক ৪৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ১০ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯০ দশমিক ৭৪ পয়েন্টে।
দিনটিতে ডিএসইতে মোট ৩৮৪টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭৪টির শেয়ারদর বেড়েছে, ২৫২টির কমেছে এবং ৫৮টির দর অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ, দর বাড়ার তুলনায় কমেছে তিন গুণেরও বেশি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর।
এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৪১০ কোটি ৫৭ লাখ টাকার শেয়ার। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৩০ কোটি ৭২ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ২০ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে, কমেছে সূচক
অন্যদিকে, দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও কমেছে সূচক। সোমবার সিএসইতে মোট ১৬ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১৬ কোটি ১২ লাখ টাকার। সেই হিসাবে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ৩০ লাখ টাকা।
সিএসইতে এদিন মোট ১৬৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৫০টির দর বেড়েছে, ৯৭টির কমেছে এবং ২২টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
দিনশেষে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২২ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৫৫৮ দশমিক ৬৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের কার্যদিবসেও সূচকটি ২২ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট কমেছিল।
সব মিলিয়ে দেশের দুই শেয়ারবাজারেই সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে ডিএসইতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতন ও লেনদেন কমে যাওয়ায় বাজারের দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং বাজারের স্বাভাবিক গতি নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর পদক্ষেপের পাশাপাশি সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
























