মালেক স্পিনিং মিলস পিএলসির পাঁচ বিনিয়োগকারীর হিসাব থেকে শেয়ার বিক্রির ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, তাঁদের অনুমতি ছাড়াই এসব শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে। তবে শেয়ার বিক্রির নির্দেশ কে দিয়েছিল, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যে দেখা দিয়েছে পরস্পরবিরোধিতা। ফলে শেয়ার বিক্রির নির্দেশনা, নথির সত্যতা এবং বিক্রির অর্থ কোথায় গেছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্ত কমিটি।
বিএসইসির ১৮ অক্টোবরের তদন্ত আদেশ অনুযায়ী, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট ব্যাংক ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং এর প্যানেল ব্রোকার সিটি ব্রোকারেজ লিমিটেডের বক্তব্যে অমিল পাওয়া গেছে। সিটি ব্রোকারেজের দাবি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ক্যাপিটাল থেকেই শেয়ার বিক্রির নির্দেশনা এসেছিল। তবে মার্চেন্ট ব্যাংকটি এমন নির্দেশ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট পাঁচ বিনিয়োগকারীও শেয়ার বিক্রির অনুমতি দেওয়ার কথা নাকচ করেছেন।
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত কমিটি দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকা নথিপত্র যাচাই করবে। বিশেষ করে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ক্যাপিটালের সংরক্ষিত শেয়ার বিক্রির মূল নির্দেশনার সঙ্গে সিটি ব্রোকারেজের জমা দেওয়া নথি মিলিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি নথিতে থাকা স্বাক্ষরও যাচাই করা হবে।
তদন্তে আরও খতিয়ে দেখা হবে, নথিগুলো লেনদেনের সময় তৈরি হয়েছিল, নাকি পরবর্তী সময়ে জালিয়াতি, পরিবর্তন কিংবা পেছনের তারিখ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ, শেয়ার বিক্রির অনুমোদন নিয়ে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে, তার নিষ্পত্তিতে নথির সত্যতা যাচাইকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শুধু শেয়ার বিক্রির নির্দেশনা যাচাইয়েই সীমাবদ্ধ থাকছে না তদন্ত। বিক্রি হওয়া শেয়ারের মালিকানা কীভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বিক্রির অর্থ কোথায় গেছে, তাও অনুসন্ধান করা হবে। শেয়ার বিক্রির নির্দেশ দেওয়ার কথা অস্বীকার করার পরও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ক্যাপিটাল কীভাবে লেনদেন নিষ্পত্তির জন্য শেয়ার সরবরাহ করেছিল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এ ছাড়া, শেয়ার বিক্রির অর্থ বিনিয়োগকারীদের মার্জিন ঋণের দায়ের বিপরীতে সমন্বয় করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করবে কমিটি। সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোর ওপর কোনো লক-ইন বা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিক্রির নিষেধাজ্ঞা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
বিএসইসির গঠিত তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন সংস্থাটির অতিরিক্ত পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপক মো. সাইফুল ইসলাম। কমিটিকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে শেয়ার বিক্রির ঘটনায় কোনো অনিয়ম কিংবা শেয়ারবাজার-সংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধানের লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে কমিটি।
সব মিলিয়ে, পাঁচ বিনিয়োগকারীর শেয়ার বিক্রির ঘটনায় নির্দেশনা নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এখন তদন্তে নথিপত্র, স্বাক্ষর, শেয়ার হস্তান্তর ও অর্থের গতিপথ যাচাইয়ের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
























