প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে পূর্ণাঙ্গ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকে রূপান্তর হতে চায় বেসরকারি খাতের এনসিসি ব্যাংক। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে চারটি শাখাকে পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকিং শাখায় রূপান্তর করেছে ব্যাংকটি। পাশাপাশি ৬২টি প্রচলিত শাখায় ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডো চালুর অনুমতি চেয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে ৪০টি শাখায় ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডো চালুর অনুমতি পেয়েছে ব্যাংকটি।
পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকে রূপান্তরের প্রস্তুতি হিসেবে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞ জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রূপান্তরের রূপরেখা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়েছে এনসিসি ব্যাংক। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
এনসিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান নূরুন নেওয়াজ বলেন, ‘আমরা চাই এনসিসি ব্যাংক পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংক হয়ে উঠুক। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যত নির্দেশনা আছে, তা মেনে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি আগামী বছরে পূর্ণ ইসলামি ব্যাংক হিসেবে রূপান্তর হবে এনসিসি ব্যাংক।’
এর আগে প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকে রূপান্তর হয়েছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক। রূপান্তরের পর স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের নাম হয় স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক এবং এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক। একইভাবে রূপান্তরের সময় এনসিসি ব্যাংকের নামও পরিবর্তন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
দেশে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের প্রসার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত সুবিধার কারণে প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর মধ্যে এ ধরনের রূপান্তরের আগ্রহ বাড়ছে। প্রচলিত ব্যাংকগুলোকে আমানতের ১৭ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নগদ জমা ও বিধিবদ্ধ তারল্য হিসেবে রাখতে হয়। অন্যদিকে ইসলামি ধারার ব্যাংকের ক্ষেত্রে এই হার সাড়ে ৯ শতাংশ। ফলে তুলনামূলক বেশি অর্থ ব্যবসায় বিনিয়োগের সুযোগ পায় ইসলামি ব্যাংকগুলো।
এনসিসি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শ অনুযায়ী ধাপে ধাপে ইসলামি ব্যাংকিং কার্যক্রম বাড়ানো হচ্ছে। শাখাগুলোতে ইসলামি ব্যাংকিং সেবা চালুর পাশাপাশি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রূপান্তরের অনুমোদন দেবে বলে আশ্বাস পাওয়া গেছে।
৬২ শাখায় ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডো চালুর উদ্যোগ
গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো চিঠিতে এনসিসি ব্যাংক ৬২টি প্রচলিত শাখায় ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডো চালুর অনুমতি চায়। পরবর্তী সময়ে এসব শাখাকে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকিং শাখায় রূপান্তরের পরিকল্পনাও জানানো হয়। ব্যাংকটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে আরও ৪০টি শাখায় ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডো চালুর অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ব্যাংকটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর ‘ইসলামিক ব্যাংকিং গুলশান শাখা’ চালুর মাধ্যমে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে এনসিসি ব্যাংক। এরপর ২০২৫ সালের ২০ মার্চ চট্টগ্রামের মুরাদপুর শাখা এবং একই বছরের ২৯ ডিসেম্বর ফেনী ও ঠাকুরগাঁও শাখায় পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকিং সেবা চালু করা হয়। পাশাপাশি ২০২৫ সালের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে আরও ৩২টি প্রচলিত শাখায় ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডো চালু করে ব্যাংকটি।
ইসলামি ব্যাংকিংয়ে আমানত ১,৪৩৭ কোটি টাকা
বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এনসিসি ব্যাংকের ইসলামি ব্যাংকিং কার্যক্রমে মোট আমানতের পরিমাণ ১ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা। বিনিয়োগের জন্য আরও ৮০০ কোটি টাকার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে ব্যাংকটি। এ ছাড়া সুকুক বন্ডে ৪৪৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ইসলামি ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি জনবলের দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছে এনসিসি ব্যাংক। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক ফাইন্যান্সের (বিআইআইএফ) মাধ্যমে ৩৬৩ জন কর্মকর্তাকে ছয় দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অনলাইন ও সরাসরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ২০০ কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।
ব্যাংকটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ইসলামি ব্যাংকিংবিষয়ক প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়িয়ে আগামী বছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকে রূপান্তরের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে এনসিসি ব্যাংক।
























