শেয়ারপ্রতি আয় ১.৬৩ টাকা, অথচ মূল্য-আয় অনুপাত (পিই) প্রায় ১৮৯ গুণ! শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সাধারণ বিমা খাতের প্রতিষ্ঠান অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স পিএলসির আর্থিক তথ্য ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিসংখ্যানে এমন অসামঞ্জস্য দেখা যাচ্ছে। শুধু পিই অনুপাতই নয়, কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনেও ২০২৪ সালের আর্থিক প্রতিবেদন ও ডিএসইর তথ্যে ২ কোটি টাকার বেশি পার্থক্য রয়েছে। ফলে কোম্পানিটির আর্থিক তথ্যের ভিত্তি ও হালনাগাদ অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ডিএসইর ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের তথ্য অনুযায়ী, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর ছিল ৩৪ টাকা। এ দর ও কোম্পানির ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত ১.৬৩ টাকা শেয়ারপ্রতি আয় ধরে পিই অনুপাত দাঁড়ায় প্রায় ২০.৮৬ গুণ। অথচ ডিএসইর তথ্যে নিরীক্ষিত পিই দেখানো হয়েছে ১৮৮.৮৯ গুণ।
এই পিই অনুপাতের ভিত্তিতে শেয়ারপ্রতি আয় হিসাব করলে দাঁড়ায় প্রায় ১৮ পয়সা, যা ২০২৪ সালের প্রকাশিত ইপিএসের তুলনায় অনেক কম।
পরিশোধিত মূলধনেও অসামঞ্জস্য
অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের ২০২৪ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে পরিশোধিত মূলধন দেখানো হয়েছে ৩৩৯.৮০ মিলিয়ন টাকা। অন্যদিকে, ডিএসইর ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের তথ্যে তা ৩৬০.১৯ মিলিয়ন টাকা।
দুই তথ্যের মধ্যে পার্থক্য ২০.৩৯ মিলিয়ন টাকা বা প্রায় ২ কোটি ৩৯ হাজার টাকা। ডিএসইর তথ্যে কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৩ কোটি ৬০ লাখ ১৮ হাজার ৬৯৮টি এবং প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা।
মূলধনের এই পরিবর্তন কখন এবং কী প্রক্রিয়ায় হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট করপোরেট ঘোষণা ও পরবর্তী আর্থিক প্রতিবেদন থেকে নিশ্চিত হয়নি ।
মুনাফা কমেছে, কমেছে শেয়ারপ্রতি আয়ও
কোম্পানিটির ২০২৪ সালের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরটিতে মোট প্রিমিয়াম আয় ছিল ৪০৩.৮০ মিলিয়ন টাকা। নিট প্রিমিয়াম আয় দাঁড়ায় ২৪৭.৪৯ মিলিয়ন টাকা। আন্ডাররাইটিং মুনাফা ছিল ৮৬.১১ মিলিয়ন টাকা এবং কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ছিল ৫৫.৪৩ মিলিয়ন টাকা।
তবে আগের বছরের তুলনায় মুনাফা কমেছে। ২০২৩ সালে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ছিল ৭০.২০ মিলিয়ন টাকা, যা ২০২৪ সালে কমে ৫৫.৪৩ মিলিয়ন টাকায় নেমেছে। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ২.০৭ টাকা থেকে কমে ১.৬৩ টাকা হয়েছে।
২০২৪ সালের শেষে কোম্পানিটির মোট সম্পদ ছিল ১,০৪৩.৬৫ মিলিয়ন টাকা এবং শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটি ছিল ৬৭৭.৯৮ মিলিয়ন টাকা।
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বেড়েছে
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে শেয়ার ছিল ২৭.৮৮ শতাংশ। ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তা কমে ২৭.৭৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ধারণের পরিমাণ ৫০.০৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৫.৫৪ শতাংশ হয়েছে। একই সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশ ২২.০৯ শতাংশ থেকে কমে ১৬.৭১ শতাংশে নেমেছে।
বিনিয়োগকারীদের নজর কোথায়?
অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের ২০২৪ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে মুনাফা ও সম্পদের ইতিবাচক চিত্র থাকলেও আগের বছরের তুলনায় আয় কমেছে। পাশাপাশি ডিএসইর প্রকাশিত পিই অনুপাত ও পরিশোধিত মূলধনের তথ্যে অসামঞ্জস্য দেখা যাচ্ছে।
এসব পার্থক্যের কারণ স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার মূল্যায়নে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই বিনিয়োগকারীদের জন্য কোম্পানিটির সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক ফলাফল, পিই হিসাবের ভিত্তি এবং মূলধন পরিবর্তনের তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
এ ব্যাপারে অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স পিএলসির সেক্রেটারি মোঃ মফিজুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে কোম্পানির কোনো বক্তব্য নেই।
























