ব্যক্তি এজেন্সি কার্যক্রম স্থগিত থাকার পরও বিভিন্ন খাতে কমিশন দেওয়ার অভিযোগে দেশের ৯টি নন-লাইফ বিমা কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিনটি পৃথক পরিদর্শন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) আইডিআরএ এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং নন-লাইফ বিমা কোম্পানিগুলোর সম্মতির ভিত্তিতে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ব্যক্তি এজেন্সি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং অসুস্থ প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ করা।
তবে অভিযোগ রয়েছে, সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পরও কিছু বিমা কোম্পানি ব্যবসা সংগ্রহের জন্য বেতন-ভাতা, ‘নো ক্লেইম বোনাস’সহ বিভিন্ন খাতে কমিশন প্রদান অব্যাহত রেখেছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিমা শিল্পে অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করছে এবং নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে গত ৪ জুন জারি করা এক চিঠির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিদর্শন পরিচালনার নির্দেশ দেয় আইডিআরএ। অভিযোগ তদন্তে তিনটি পৃথক টিম মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।
পরিদর্শনের আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স এবং প্রাইম ইসলামী ইন্স্যুরেন্স।
আইডিআরএ জানিয়েছে, পরিদর্শন শেষে প্রস্তুত করা প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের ভিজিল্যান্স টিমের কাছে জমা দেওয়া হবে। তদন্তে কোনো ধরনের অনিয়ম, বিধি লঙ্ঘন বা নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা অমান্যের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে আইডিআরএর সদস্য (সাধারণ বিমা) মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, পরিদর্শনের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অমান্য করেছে বলে প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিমা খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সমান প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
























