২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে শেয়ারবাজারের উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব অর্থনীতি গঠনে নেওয়া বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী জাতীয় ঐক্য ফাউন্ডেশন (ক্যাপমিনাফ)। সংগঠনটির মতে, বাজেটের প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের শেয়ারবাজারে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ও সংবাদ সম্মেলনে ক্যাপমিনাফের নেতারা বলেন, দেশের শেয়ারবাজারের উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের বাজেটকে তারা পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক ও সময়োপযোগী বলে মনে করছেন।
সংগঠনটির মতে, শেয়ারবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপ ইতোমধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। বিশেষ করে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শেয়ারবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী নিয়োগ এবং অর্থমন্ত্রীর শেয়ারবাজারবান্ধব অবস্থান বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
ক্যাপমিনাফ জানায়, বাজেটে শেয়ারবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করা হয়েছে। পাশাপাশি টি+২ সেটেলমেন্ট থেকে ধাপে ধাপে টি+১ এবং পরবর্তীতে টি+০ সেটেলমেন্ট ব্যবস্থায় যাওয়ার পরিকল্পনা, ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আইপিও অনুমোদন এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে মুনাফার অন্তত ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ বিতরণে উৎসাহিত করতে নতুন করনীতি প্রবর্তনের উদ্যোগ বাজারকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করবে।
সংগঠনটির ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে আস্থার সংকট, সীমিত বিনিয়োগ পণ্য এবং ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের কারণে দেশের শেয়ারবাজার অর্থনীতিতে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি। তবে বর্তমান বাজেটের নীতিগত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, নতুন উদ্যোক্তারা মূলধন সংগ্রহের সুযোগ পাবেন এবং শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান ত্বরান্বিত হবে।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ক্যাপমিনাফ জানায়, বর্তমানে দৈনিক লেনদেন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে রয়েছে। তাদের ধারণা, বাজেট পাস হওয়ার পর দৈনিক লেনদেন ৫ হাজার কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করতে পারে, যা বাজারে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করবে এবং প্রায় ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে সহায়ক হবে।
সংগঠনটি আরও প্রস্তাব করেছে, যেসব তালিকাভুক্ত কোম্পানি টানা তিন বছর লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং যাদের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, সেসব কোম্পানিকে সরাসরি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে না পাঠিয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মাধ্যমে প্রশাসক নিয়োগ করা হোক। তাদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ কোম্পানিগুলোর পুনরুদ্ধার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ক্যাপমিনাফের নেতারা বলেন, সরকারের ধারাবাহিক সংস্কার কর্মসূচি, নীতিগত সহায়তা এবং বাজারবান্ধব পদক্ষেপের ফলে দেশের শেয়ারবাজার দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাজারে পরিণত হবে।
বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ও সংবাদ সম্মেলনে ক্যাপমিনাফের সভাপতি মো. রুহুল আমিন আকন্দসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
























