বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে নতুন অর্থনৈতিক মডেলের প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, ‘সবার আগে বিনিয়োগ, সবার জন্য বিনিয়োগ এবং সবার জন্য অর্থনীতি’—এই দর্শনের ভিত্তিতে নতুন অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
বুধবার রাজধানীর গুলশানে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) আয়োজিত বাজেটবিষয়ক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার ও গতিশীল করতে তিনটি কৌশলকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—পুনরুদ্ধার (Recovery), পুনর্বহাল (Restoration) এবং পুনর্গঠনের মাধ্যমে গতিশীলতা (Restructuring for Dynamism)। এই ত্রিমুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে নীতির ধারাবাহিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতা দেখতে চান। এ কারণেই ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পাঁচ বছরের করকাঠামোর দিকনির্দেশনা বাজেটে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসা পরিচালনায় লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমাতে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাসের বিষয়ে বাজেটে সুস্পষ্ট কৌশল উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগ সহায়তায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সরকারের কর্মকাণ্ডের গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়ে তিতুমীর বলেন, সরকার প্রশংসার চেয়ে বাস্তবভিত্তিক সমালোচনা থেকে বেশি উপকৃত হবে, যা নীতি নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
রাজস্ব ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু করের হার বৃদ্ধি নয়, বরং সুশাসন নিশ্চিত ও পদ্ধতিগত দুর্বলতা দূর করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের কর অব্যাহতি, কর ফাঁকি ও কর জালিয়াতির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট খাতে পৃথক টাস্কফোর্স গঠন করে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৬৫ শতাংশ রাজস্ব সংগ্রহ করতে পেরেছে। এ অবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া নতুন অর্থবছরের উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসের এজাজ বিজয় বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট মানবিক হলেও এর সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর। তিনি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি দমন এবং ব্যাংকিং খাত সংস্কারে আরও স্পষ্ট কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার বলেন, গত কয়েক বছরে অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির ধাক্কার মধ্য দিয়ে গেছে। যদিও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে ব্যাংকিং খাতের সংকট এখনও অর্থনীতির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ব্যাংকিং খাতের পুনরুদ্ধার ছাড়া অর্থনীতির বর্তমান চাপ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। তাই ব্যাংক খাত সংস্কার ও পুনরুদ্ধারকে দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
























