অফিস রাজনীতি, বঞ্চনা, বেঁচে থাকার লড়াই এবং ভৌতিক রোমাঞ্চ—সব মিলিয়ে এক ভিন্নধর্মী গল্প নিয়ে দর্শকদের সামনে এসেছে নতুন হলিউড সিনেমা ‘সেন্ড হেল্প’। ছবিটির মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর নিজের স্বকীয় ধারায় ফিরেছেন খ্যাতিমান নির্মাতা স্যাম রাইমি।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে একটি করপোরেট অফিসের দুই ভিন্ন চরিত্র। ব্র্যাডলি প্রেস্টন একটি বড় প্রতিষ্ঠানের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। অন্যদিকে লিন্ডা লিডল দীর্ঘদিন ধরে একই প্রতিষ্ঠানে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে নতুন দায়িত্ব নিয়েই ব্র্যাডলি জানিয়ে দেন, লিন্ডা পদোন্নতির জন্য উপযুক্ত নন।
ঘটনার মোড় ঘুরে যায় একটি ব্যবসায়িক সফরে। থাইল্যান্ড যাওয়ার পথে বিমান দুর্ঘটনায় অন্য সবাই মারা গেলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান ব্র্যাডলি ও লিন্ডা। তারা আটকা পড়েন থাইল্যান্ড উপসাগরের একটি নির্জন দ্বীপে।
জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে দ্রুতই বদলে যায় ক্ষমতার সমীকরণ। অফিসের প্রভাবশালী বস ব্র্যাডলির জঙ্গলে টিকে থাকার কোনো অভিজ্ঞতা নেই, উপরন্তু তিনি গুরুতর আহত। বিপরীতে লিন্ডার রয়েছে সারভাইভাল ট্রেনিংয়ের অভিজ্ঞতা। শিকার করা, আশ্রয় তৈরি এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার দক্ষতা তাকে দ্বীপে টিকে থাকার প্রধান ভরসায় পরিণত করে।
একসময় যাকে গুরুত্বই দিতেন না ব্র্যাডলি, এখন তার জীবন বাঁচানোর জন্য সেই লিন্ডার ওপরই পুরোপুরি নির্ভর করতে হয়। এই পরিবর্তিত সম্পর্ক এবং বেঁচে থাকার সংগ্রামকে ঘিরেই এগিয়েছে ছবির মূল কাহিনি।
লিন্ডা চরিত্রে র্যাচেল ম্যাকঅ্যাডামস অসাধারণ অভিনয় করেছেন। অফিসের আত্মবিশ্বাসহীন কর্মী থেকে এক সাহসী ও আত্মনির্ভর নারীতে রূপান্তরের যাত্রা তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছেন। আবেগ, হাস্যরস এবং সংকট—সব ধরনের দৃশ্যেই ছিল তার স্বাভাবিক উপস্থিতি।
অন্যদিকে ব্র্যাডলি চরিত্রে ডিলান ও’ব্রায়েনও নজর কেড়েছেন। অহংকারী ও আত্মকেন্দ্রিক একজন মানুষের ভেতরের দুর্বলতা ও মানবিক দিকগুলো তিনি সূক্ষ্ম অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। ফলে চরিত্রটির প্রতি দর্শকের বিরক্তি যেমন তৈরি হয়, তেমনি একধরনের সহানুভূতিও জন্ম নেয়।
হরর ও কমেডির মিশ্রণে দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে স্যাম রাইমির দক্ষতা আবারও প্রমাণিত হয়েছে এই ছবিতে। ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মাঝেও হালকা হাস্যরস যোগ করে তিনি গল্পকে প্রাণবন্ত রেখেছেন। ফলে ছবিটি কখনোই একঘেয়ে হয়ে ওঠে না।
চিত্রনাট্যকার ড্যামিয়ান শ্যানন ও মার্ক সুইফট গল্পে কর্মক্ষেত্রে নারীদের বঞ্চনার বিষয়টিও সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি দর্শকের ধারণাকে বারবার চ্যালেঞ্জ করে গল্পকে এগিয়ে নিয়েছেন তারা।
তবে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। অফিসের শুরু অংশে লিন্ডাকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি দুর্বল ও অস্বস্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ছবির শেষের অংশে তার চরিত্রের উপস্থাপনাও মূল গল্পের আবহের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে নাও হতে পারে।
সব মিলিয়ে ছোটখাটো কিছু দুর্বলতা থাকলেও ‘সেন্ড হেল্প’ একটি উপভোগ্য সারভাইভাল-হরর সিনেমা। বিশেষ করে র্যাচেল ম্যাকঅ্যাডামসের দুর্দান্ত অভিনয় এবং স্যাম রাইমির পরিচিত নির্মাণশৈলী ছবিটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। হররপ্রেমী হোন বা না হোন, ভিন্ন স্বাদের সিনেমা দেখতে চাইলে ‘সেন্ড হেল্প’ হতে পারে ভালো একটি পছন্দ।
























