জামালপুরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন জেলার হাজারো ফুটবলপ্রেমী। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে গরমের কষ্টের পাশাপাশি বিশ্বকাপের আনন্দ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন অনেক দর্শক।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকার বাসিন্দারা। দিনের পাশাপাশি রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জেলার বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। বর্তমানে প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের অর্ধেকেরও কম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখতে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তাদের দাবি, তাদের আওতাধীন এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় গড়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে, যা তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। আগে বৈরী আবহাওয়ায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা বেশি দেখা গেলেও এখন প্রায় প্রতিদিনই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। অনেক এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ ঘণ্টাও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, বিশ্বকাপ ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ চলাকালেই প্রায়শই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। অনেক সময় আধা ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকার পর এক থেকে দেড় ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, এমনকি পুরো খেলাই মিস করতে হচ্ছে দর্শকদের।
জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, জামালপুর জেলা ছাড়াও কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলায় এখান থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এসব এলাকা মিলিয়ে মোট চাহিদা প্রায় ১৮০ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭০ থেকে ৭৫ মেগাওয়াট।
বকশীগঞ্জ উপজেলার বিলেরপাড় এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, চার বছর পর আসা বিশ্বকাপের আনন্দ উপভোগ করার সুযোগই পাচ্ছেন না তারা। ম্যাচ শুরু হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়, আবার ফিরে আসার আগেই খেলা শেষ হয়ে যায়।
মাদারগঞ্জের বালিজুড়ী এলাকার মোহাম্মদ বাবু মিয়া বলেন, বিশ্বকাপকে ঘিরে সাধারণ মানুষের অনেক আবেগ থাকে। কিন্তু তীব্র লোডশেডিং সেই আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ গোল ও ম্যাচের রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলো দেখতে না পারায় দর্শকদের হতাশা বাড়ছে।
এ বিষয়ে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মো. রাসেল মিয়া বলেন, চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎও পাওয়া যাচ্ছে না। যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, তা-ই সরবরাহ করা হচ্ছে। বিশ্বকাপের সময় দর্শকদের ভোগান্তির বিষয়টি তারা বুঝতে পারছেন, তবে বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে আপাতত বিকল্প কোনো উপায় নেই।
























