ঢাকা   শুক্রবার ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালির কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ডুবল দুই জাহাজ

বিশেষ প্রতিবেদন

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২০:৪৬, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

হরমুজ প্রণালির কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ডুবল দুই জাহাজ

ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালির কাছে ডুবে গেছে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ। এর মধ্যে একটি কনটেইনারবাহী এবং অন্যটি পণ্যবাহী জাহাজ। বুধবার সামুদ্রিক নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত ১০ দিনে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের আশপাশে জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়েছে। ইরান বলছে, দেশটির বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং গত মাসে আরোপ করা কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জবাবে হামলা জোরদার করা হচ্ছে।

সামুদ্রিক নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী জিএফএস প্রাইড নামের একটি ছোট কনটেইনারবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় হামলার শিকার হয়। হামলায় জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। পরে এটি ডুবে যায়।

সিঙ্গাপুরের সামুদ্রিক ও বন্দর কর্তৃপক্ষ বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, জাহাজটির ২১ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, পৃথক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী কেপ দাও নামের আরেকটি জাহাজও প্রণালির কাছে ডুবে গেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থার (আইএমও) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ একটি বস্তুর আঘাতে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বুধবার এটি ডুবে যায়।

সামুদ্রিক নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, কেপ দাও-এ হামলায় একজন নাবিক নিহত হয়েছিলেন। হামলার পরপরই জাহাজটির অন্য নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক জাহাজটির ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান পিওনিজ শিপম্যানেজমেন্ট এফজেডইর সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের সামুদ্রিক ও বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে এ ধরনের হামলার কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং তা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

এদিকে, জিএফএস প্রাইডের ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক জিএফএস শিপ ম্যানেজমেন্ট এফজেডইর সঙ্গেও তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান মারিস্কস বুধবার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য বিদ্যমান নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, শুধু তেলবাহী ট্যাংকার নয়, কনটেইনারবাহী ও অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজও গুরুতর ঝুঁকির মুখে রয়েছে।