সরকারি বাসা বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনলাইন পদ্ধতি চালু করেছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। এখন থেকে অনলাইনে আবেদন যাচাই-বাছাই ও বরাদ্দের ফলাফল প্রকাশ করা হবে। এত দিন ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হতো।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনলাইনে বাসা বরাদ্দের ফলাফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে এর উদ্বোধন করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।
প্রথম ধাপে বিভিন্ন শ্রেণির ৫৪টি শূন্য সরকারি বাসার বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ৫৯৬টি। যাচাই-বাছাই শেষে ৩৪২টি আবেদন গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করায় বাতিল হয়েছে ২৫৪টি আবেদন।
অনুষ্ঠানে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং নাগরিক সেবা সহজ করা সরকারের অঙ্গীকার। মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর অংশ হিসেবে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের বাসা বরাদ্দ প্রক্রিয়াকে সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব করতে অনলাইন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ সেপ্টেম্বর অনলাইনে বাসা বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আবেদন গ্রহণ করা হয় ১৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে এবার অনলাইনে বরাদ্দের ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সরকারি বাসার তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি
সরকারি আবাসন পরিদপ্তর সরকারি কর্মচারীদের আবাসনের জন্য বাসা বরাদ্দ দিয়ে থাকে। পরিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরে কর্মরত সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা ২ লাখ ২২ হাজার। তাঁদের বিপরীতে সরকারি বাসা রয়েছে মাত্র ২১ হাজার। ফলে সরকারি বাসার চাহিদার তুলনায় বরাদ্দযোগ্য বাসার সংখ্যা অনেক কম।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বাসা বরাদ্দে একটি অসাধু চক্রের প্রভাব এবং ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অনলাইনে বাসা বরাদ্দের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা পরিদপ্তরের ২০২১ সাল থেকেই ছিল। তবে বিভিন্ন চাপ ও অসাধু চক্রের বাধার কারণে এত দিন এ পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। নতুন পদ্ধতি চালুর ফলে বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সুযোগ কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সরকারি কর্মচারীদের গ্রেড অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণির বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সচিব ভবনে গ্রেড-১ ও সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য ১১৪টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য সুপিরিয়র, এফ, ই, ডি-১ ও ডি-২ শ্রেণিসহ বিভিন্ন শ্রেণির বাসা রয়েছে।
অনলাইন পদ্ধতি চালুর ফলে বরাদ্দপ্রত্যাশীরা সহজে ফলাফল জানতে পারবেন। এতে সময় ও ভোগান্তি কমার পাশাপাশি বরাদ্দ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়বে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
অনুষ্ঠানে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, মন্ত্রণালয়ের সচিব ওবায়দুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব আবদুল মতিন এবং সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক জহিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
























