ঢাকা   মঙ্গলবার ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কারে কমিটি হলে বিবেচনা করবে জামায়াত: শফিকুর রহমান

রাজনীতি

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২১:২১, ১৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ

সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কারে কমিটি হলে বিবেচনা করবে জামায়াত: শফিকুর রহমান

সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে গঠিত কোনো বিশেষ কমিটিতে প্রতিনিধি না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তবে সংবিধান সংস্কারের জন্য কমিটি গঠন করা হলে বিষয়টি বিবেচনা করবে তার দল।মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের দাবি ছিল সংবিধান সংস্কার, শুধুমাত্র সংশোধন নয়। এ জন্যই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তাই সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের প্রয়োজন নেই। এটি একটি নিয়মিত আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার অংশ, যেখানে সরকার বিল উত্থাপন করবে, আলোচনা হবে এবং সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা পাস বা বাতিল হবে।

তিনি বলেন, “কমিটির প্রয়োজন সংবিধান সংস্কারের জন্য। যদি সরকার এ বিষয়ে কোনো প্রস্তাব দেয়, তাহলে আমরা সেটি বিবেচনা করব।”

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণের রায় সংসদে বাস্তবায়িত না হলে তা রাজপথে আদায়ের চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, “যেটা সংসদে সমাধান হবে, হবে। আর সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে হবে। জনগণের দাবি থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই।”

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা সম্পর্কে শফিকুর রহমান বলেন, তার দল ‘বগলদাবা বিরোধী দল’ হবে না। একই সঙ্গে তারা এমন কোনো আচরণও করবে না, যাতে জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জনগণের স্বার্থে যৌক্তিক ও দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, কোনো যৌক্তিক দাবি বা প্রস্তাব বিবেচনা ছাড়াই বাতিল করে দেওয়া হলে তারা ওয়াকআউট করতে পারে। তবে সেটি দীর্ঘমেয়াদি হবে না। “আমাদের খুব গরম বিরোধী দল ভাববেন না, আবার নীরব বিরোধী দলও নয়। আমরা দেশের স্বার্থে একটি যৌক্তিক বিরোধী দলের ভূমিকা রাখতে চাই,” বলেন তিনি।

সীমান্তে ‘পুশ ইন’ ইস্যু নিয়ে সংসদে আলোচনার সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগও করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিরোধী দলের দেওয়া নোটিশকে ‘সংবেদনশীল’ উল্লেখ করে প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য তা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানান।

মতবিনিময় সভায় বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বিরোধীদলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ