ঢাকা   বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

অগ্রণী ব্যাংকের ভল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি

অগ্রণী ব্যাংকের ভল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি

চট্টগ্রামে অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার ক্যাশ ভল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতির ঘটনায় ব্যাংকের ক্যাশ ইনচার্জসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্যাংকের অভিযোগ, গ্রাহকদের জমা করা এই অর্থ আত্মসাৎ করে ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে।

ঘটনায় শাখার সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন এবং তার সহযোগী মো. জাফরুল্লাহ তানভীরকে আসামি করে মামলা করেছে ব্যাংক। গত ১০ আগস্ট তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

ব্যাংকের দায়ের করা মামলার এজাহার অনুযায়ী, কামরুল হোসেন শাখাটির ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে ছিলেন। গত ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম শেষে নগদ অর্থের হিসাব ও ভল্টে থাকা টাকার হিসাব মেলাতে গিয়ে গরমিল ধরা পড়ে। পরে ভল্টের হিসাব, রেকর্ডপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি পাওয়া যায়।

ব্যাংকের দাবি, ঘাটতির বিষয়ে কামরুল হোসেন সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাফরুল্লাহ তানভীরসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সহায়তায় ভল্টের টাকা সরিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ভল্টে টাকা সংরক্ষণের সময় ১ হাজার টাকার বড় বান্ডিলের মধ্যে ১০০ টাকা বা তার কম মূল্যমানের নোট ঢুকিয়ে বান্ডিল তৈরি করা হতো। ফলে বাইরে থেকে বান্ডিল দেখে ভল্টে পর্যাপ্ত টাকা রয়েছে মনে হলেও প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কম থাকত। ব্যাংকের অভিযোগ, এভাবে সরানো অর্থ হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকার ‘ইশরাত এগ্রো’ নামের একটি গরুর খামারে বিনিয়োগ করা হয়েছে। বর্তমানে ওই খামারে বিভিন্ন জাতের ৫০ থেকে ৬০টি গরু রয়েছে বলে জানা গেছে।

কোতোয়ালী থানার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. ইকবাল হোসেন জানান, ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ ও তথ্যের রেকর্ড এবং ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।

তবে মামলার আসামি জাফরুল্লাহ তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তার ছেলে অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা বা ওই শাখার গ্রাহক নন। তিনি আগে থেকেই গরুর খামারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তার দাবি, ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেনের সঙ্গে তার ছেলের আগে থেকেই পরিচয় ছিল এবং কামরুল মাঝেমধ্যে তাকে লাভে টাকা দিতেন। এ ঘটনায় তার ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে ব্যাংকের বক্তব্য মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।

ঘটনার প্রকৃত কারণ, অর্থের পুরো উৎস ও এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না—তা তদন্ত শেষ হলে আরও স্পষ্ট হবে।