ঢাকা   বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

দুদকে অভিযোগের পরই সাময়িক বরখাস্ত ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা

দুদকে অভিযোগের পরই সাময়িক বরখাস্ত ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা

দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে দুদকের দ্বারস্থ হওয়া ইসলামী ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের ঘটনায় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি ও অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী নামের ওই কর্মকর্তা সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, ব্যবসায়ী সাইফুল আলম (এস আলম)সহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছিলেন।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, শাখা পর্যায়ের কর্মকর্তার সরাসরি দুদকে অভিযোগ করার সুযোগ নেই। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় তদন্তের স্বার্থে ইয়াসীন আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করে ট্রেনিং একাডেমিতে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলতাফ হোসেনের ভাষ্য, ঋণসংক্রান্ত অনিয়ম হলে ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি তোলা হয়। দুদকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ব্যাংকের আলাদা বিভাগও রয়েছে। ফলে একজন শাখা কর্মকর্তা নিজ উদ্যোগে কেন দুদকে অভিযোগ করেছেন, সেটিই এখন তদন্তের বিষয়।

তবে ঘটনাটির আরেকটি দিক সামনে এসেছে ব্যাংকের নথিতে। সেখানে দেখা যায়, গত ২৬ জুলাইয়ের সিদ্ধান্তের পর ইয়াসীন আলীকে একটি নির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ দুদকে উত্থাপনের জন্য আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরদিন, ২৭ জুলাই জারি করা চিঠিতে তাঁকে সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্যালাক্সি সোয়েটার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতাও দেওয়া হয়।

এই নথি ও পরবর্তী সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তের মধ্যে সময়ের ব্যবধানই ঘটনাটিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। একদিকে ব্যাংক বলছে, শাখা পর্যায় থেকে দুদকে অভিযোগ করার এখতিয়ার নেই; অন্যদিকে নথিতে একই কর্মকর্তাকে দুদকে অভিযোগসংক্রান্ত কাজের জন্য দায়িত্ব দেওয়ার প্রমাণ রয়েছে। ফলে ইয়াসীন আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগ দাখিলের প্রক্রিয়ায় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অনুমোদনের ভূমিকা—দুটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইয়াসীন আলী ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর অভিযোগের তালিকায় থাকা সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হন। তিনি ৮ জুন ২০১৭ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ পর্যন্ত ব্যাংকটির পরিচালক ছিলেন এবং পরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর পরিচালকের পদ ছাড়েন।

ঘটনাটি তাই শুধু একজন ব্যাংক কর্মকর্তার সাময়িক বরখাস্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। অভিযোগ জানানোর প্রাতিষ্ঠানিক পথ, শাখা পর্যায়ের কর্মকর্তার ক্ষমতা এবং অনিয়মের তথ্য উত্থাপনকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা—ইসলামী ব্যাংকের সুশাসন কাঠামো নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।