ঢাকা   মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

যেদেশে রাষ্ট্রপতি হতে বয়স লাগে ৩৫, সেদেশে নির্বাচন কমিশনার হতে কেন বয়স ৫০ লাগবে? : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

জাতীয়

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২১:০৮, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১০:৩৫, ২০ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

যেদেশে রাষ্ট্রপতি হতে বয়স লাগে ৩৫, সেদেশে নির্বাচন কমিশনার হতে কেন বয়স ৫০ লাগবে? : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের পথ ধরেই ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান। ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি কোটা সংস্কারের দাবিতে হাইকোর্টে রিট পিটিশন (যার নম্বর ৩১৭৯/২০১৮) দায়ের ছিল ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সূত্রপাত। রিটটি যারা দায়ের  করেন তাদের অন্যতম হলেন দ্য নিউ নেশনের এসাইনমেন্ট এডিটর মোহাম্মদ আবদুল অদুদ। এছাড়া ছিলেন বাসস এর প্রধান প্রতিবেদক ও পরিচালনা বোর্ডের পরিচালক মো. দিদারুল আলম দিদার ও ঢাবির সাবেক মেধাবী ছাত্র আনিসুর রহমান মীর। আইনজীবী ছিলেন এডভোকেট একলাছ উদ্দিন ভুইয়া। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট  ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে ভালো ফলাফলসহ ত্রিপল মাস্টার্স করা এবং দুই দশকেরও বেশি সময় ইনকিলাব, নিউ নেশন, আমাদের অর্থনীতি, দেশবাংলা ও আমাদের সময়সহ মূলধারার বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন সিনিয়র সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ আবদুল অদুদ কোটা সংস্কারের বিষয়টিকে জাতীয় আলোচনায় নিয়ে আসতে ব্যাপক গণমাধ্যম কার্যক্রম পরিচালনা করেন, যা জাতীয় নীতিনির্ধারণে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।
ইতিহাসে বড় পরিবর্তনের সূচনা ঘটে কিছু দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মানুষের হাত ধরে—যারা দৃশ্যমান আন্দোলনের আগেই নির্মাণ করেন তার নৈতিক ভীত। এই প্রেক্ষাপটে মোহাম্মদ আবদুল অদুদের ভূমিকা ছিল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

কোটা সংস্কার রিট দায়ের প্রেক্ষাপট, তৎপরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ ও বিশেষত তথ্য কমিশন গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে সোমবার দুপুরে মত বিনিময় করেন কোটা সংস্কারের পক্ষে শত শত রিপোর্ট করে আলোচিত সাংবাদিক মোহাম্মদ আবদুল অদুদ। 

২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি কোটা সংস্কার রিট দায়েরের ফলাফল কী জানতে চাইলে সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ আবদুল অদুদ বলেন, এটা ওপেন সিক্রেট, সবাই জানেন যে, আদালতের রায়গুলো তখন কীভাবে হতো। নির্ধারিত ডেটে আমরা আদালতে যেতাম। তারিখ পেতাম। কখনো রিফিউজ হতো। সরকারের পলিসি বলে তো একটি কথা আছে! রিট খারিজ। পাল্টা আপিল। এভাবে আদালতের বারান্দায় আমাদের অনেক দিন কাটে। যার ধারাবহিকতা চলতে থাকে। আর এদিকে বর্তমান প্রতিমন্ত্রী ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, হাসান আল মামুন, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী রাশেদ খান, ফারুক হাসান, তারেক রহমানদের নেতৃত্বে কোটা সংস্কার আন্দোলন চাঙ্গা হতে থাকে। একবার তারেক গোপনে এসেছিলেন এডভোকেট একলাছ উদ্দিন সাহেবের বাসায়। সেখানে তার ইন্টারভিউ নিই। ব্যারিস্টার সরোয়ার সাহেব দারুণ লিখতেন। হঠাৎ তার লেখা ছাপা নিষিদ্ধ করে ডিজিএফআই। এভাবে ভয়াল পরিবেশে বিচক্ষণতার সঙ্গে কাজ করতে হয়েছে।

রিট দায়ের পরবর্তীতে আপনার বিশেষ কী ধরনের ভূমিকা ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, রিট দায়েরের পর একটি প্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়ার জন্য বৈধ সকল প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছি। যেমন : কোটা সংস্কারের পক্ষে শত শত রিপোর্ট করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে গণআন্দোলনে রূপদান করে ছাত্রসমাজের কাছে আলোচিত হই। আমি লেখালেখি ছাড়াও ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে কোটা সংস্কার ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরে কথা বলেছি। কাজ করেছি। মনে পড়ে, ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জাতীয় মানবাধিকার সোসাইটির অনুষ্ঠানে তৎকালীন ভিসি ড. আখতারুজ্জামান'কে বাধ্য করেছি ডাকসু নির্বাচন দিতে। সেই সময়কার পত্রিকাগুলোয় তার প্রমাণ ও উপস্থিত ব্যক্তিরা এখনও জীবিত আছেন। এই কমিটমেন্টকে আরো বলিষ্ঠ করতে আমি লিখেছিলাম, 'ডাকসু নির্বাচন আদালতের বাধ্যবাধকতায় কেন?' আমাদের সামগ্রিক সমর্থন নিয়ে মজলুম ছাত্রনেতা নুরুল হক নুর ভিপি নির্বাচিত হন। আমার অফিস আমাদের অর্থনীতিতে প্রতিদিন ৩/৪টি আইটেম নিয়মিত প্রকাশিত হতো কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে। আমি ৫৬% কোটার কারণে  বিসিএস বঞ্চিত হওয়ার কারণে তখন 'বুকের ভিতর দারুণ জ্বালা...' ছিল। সেজন্য শত শত রিপোর্ট করেছি। আলহামদুলিল্লাহ কোটা এখন ৫৬% থেকে ৭% এ এসেছে। এটাই আমাদের এচিভমেন্ট। 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আপনার ভূমিকা কী ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোটা আন্দোলনের কলমী সৈনিক হিসেবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে আন্তরিকভাবে ধারন করে, পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে থেকে অনেক কাজ করেছি। তখন আমি দৈনিক ইনকিলাব এ কাজ করতাম। শিক্ষার্থীরা যেমন দেয়ালগুলো রাঙিয়েছিল, তেমনি আমি রাঙিয়েছিলাম রক্তাক্ত ছবি ও সঠিক তথ্য সমৃদ্ধ  পত্রিকার পাতাগুলো। সর্বশেষ ৬ দিনে গনঅভ্যুত্থানের সপক্ষে রেকর্ড ৮৭টি  প্রতিবেদন ইনকিলাবে প্রকাশ করি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কারফিউ কার্ড নিয়ে অফিস করি। জুলাই আন্দোলনের অগ্নিগর্ভখ্যাত সাইনবোর্ড এলাকার আন্দোলন সরাসরি কাভার করি। নেট বন্ধ করলে মোবাইল এসএমএসে রিপোর্টিং/ সর্বশেষ আপডেট চালু রাখি। হেলিকপ্টারের গুলিতে আমি মারা গিয়েছি বলে গুজব ছড়িয়ে পড়লে লাশ দেখতে অনেক লোক বাসায় আসেন। ইনকিলাব অফিসসহ বিভিন্ন অচেনা নাম্বার থেকে মৃত্যুখবর জানতে ফোন আসে। তবুও থেমে যাইনি। 

অন্তর্তীকালীন সরকারের সময়ে গুঞ্জন ছিল আপনি নির্বাচন কমিশনার হচ্ছেন। ২০-২৫টি রাজনৈতিক সংগঠন আপনার নাম প্রস্তাব করেছিল মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে। তবু হতে পারলেন না কেন, জানতে চাইলে মোহাম্মদ আবদুল অদুদ বলেন, বয়সের কারণে। 'আমার বয়স ৪৯। নির্বাচন কমিশন আইনের ২ নম্বর ধারায় বয়স ৫০ হতে হবে উল্লেখ আছে। স্বাভাবিক কারণে প্রতিক্রিয়াস্বরূপ তখন মিডিয়া ও জনমনে প্রশ্ন ওঠেছিল, যে দেশে রাষ্ট্রপতি হতে বয়স লাগে ৩৫ এবং প্রধানমন্ত্রী হতে ২৫, সেদেশে নির্বাচন কমিশনার হতে কেন বয়স ৫০ লাগবে?

শুনেছিলাম আপনি তথ্য কমিশনার হচ্ছেন। অন্তর্বরতীকালে শেষ পর্যন্ত তথ্য কমিশন হলো না কেন, এবারই বা হতে পারলেন না কেন জানতে চাইলে জাতীয় প্রেসক্লাবের এই সদস্য বলেন, তখন তথ্য কমিশন না হওয়ার মূল কারণ ছিল সার্চ কমিটি, যেখানে ২ জন সংসদ সদস্যের বাধ্যবাধকতা ছিল। তখন তো সংসদ ছিল না। কীভাবে হবে? ড. আসিফ নজরুল আইন ভঙ্গ করে কিছু করতে রাজি হননি। আর এবারের বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না। সরকার যেটা ভালো মনে করেছে, সেটাই করেছে। আমাকে হয়তো অন্য কোথাও দেবে ইনশাআল্লাহ। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিচারক, আইনজীবী, রাজনীতিক, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীসহ বিভিন্ন মহল থেকে আপনাকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে মূল্যায়ণ করার দাবি বার বার ওঠে আসার পরও সরকার গড়িমসি করছে কিনা জানতে চাইলে এই ভাষাসৈনিক সন্তান বলেন, যেহেতু আমি নিজে ৫৬% কোটার কারণে বিসিএস বঞ্চিত এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের রেশ ধরেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান, সেহেতু শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনে আইনি, বৌদ্ধিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে তোলা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমার অসামান্য অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে আমার হৃদয়ের মণিকোটায় সংরক্ষিত ‘জাতীয়তাবাদী’ আদর্শের সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান রাষ্ট্রের যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দিলে সততা ও নিষ্ঠার সাথে তা পালন করব, প্রীত হব, কৃতজ্ঞ থাকব। প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া তার চিঠিতেও এসব কথা উল্লেখ করেছেন বলে সাংবাদিকদের জানান ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিল এ ২ বার নির্বাচিত সাবেক ইসি সদস্য, ডিইউজের সাবেক ইউনিট চীফ ও কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম অব ঢাকার নির্বাচিত সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল অদুদ।

সর্বশেষ