ফসল রক্ষায় রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে উচ্চঝুঁকির কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে জৈব বালাইনাশকের দিকে যেতে হবে বলে মনে করছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, দেশে থাকা প্রায় ৮০ শতাংশ পোকাই উপকারী। এসব পোকা ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ধ্বংস করে প্রাকৃতিকভাবেই ফসল রক্ষায় ভূমিকা রাখে। কিন্তু অতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগে উপকারী পোকাও মারা যাচ্ছে, ফলে উল্টো ক্ষতিকর পোকার বিস্তার বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটের সার্ক এগ্রিকালচার কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক কর্মশালায় এ তথ্য তুলে ধরেন কীটতত্ত্ববিদ ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) পরিচালক ড. নির্মল কুমার দত্ত।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) আয়োজিত কর্মশালায় বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএআরএফ) সদস্যরা অংশ নেন।
ড. নির্মল কুমার দত্ত বলেন, দেশে কীটনাশকের ব্যবহার প্রতিবছরই বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে অনেক ক্ষতিকর পোকামাকড় এসব কীটনাশকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে উঠছে। ফলে আগের তুলনায় বেশি মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন পড়ছে।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের সবচেয়ে বড় ক্ষতির একটি হলো উপকারী পোকামাকড়ও এতে মারা যাচ্ছে। অথচ এসব পোকা ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উপকারী পোকা কমে গেলে ক্ষতিকর পোকার বিস্তার আরও সহজ হয়ে পড়ে।
নির্মল কুমার দত্ত জানান, ২০১৬ সাল পর্যন্ত দেশে নতুন করে ২৫টির বেশি ক্ষতিকর পোকার আগমন ঘটেছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাসায়নিক কীটনাশকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে।
তিনি জানান, দেশে প্রায় ৮ হাজার ধরনের কীটনাশক অনুমোদিত রয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় ৪৭ শতাংশ কীটনাশক শতভাগ পিউর বা নির্ভেজাল হিসেবে পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত আটটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে দেশে ২৫টি উচ্চঝুঁকির কীটনাশক চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব উচ্চঝুঁকির বালাইনাশক থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার প্রয়োজন রয়েছে।
কর্মশালায় বক্তারা জানান, ফসল উৎপাদনে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের আরেকটি উদাহরণ মধুপুরের আনারস চাষ। সেখানে নির্ধারিত মাত্রার তুলনায় ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ বেশি কীটনাশক প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে কর্মশালায় তথ্য তুলে ধরা হয়।
অধ্যাপক ড. খন্দকার শরিফুল ইসলাম বলেন, পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে বালাইনাশক ব্যবহার করা হলেও নকল বালাইনাশকের কারণে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। এতে ক্ষতিকর পোকা ধ্বংস না হয়ে বরং তাদের বংশবিস্তার আরও বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়।
অধ্যাপক ড. মাহবুবা জাহান বলেন, জৈব বালাইনাশক প্রকৃতিতেই বিদ্যমান। তাই ফসল রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে উপকারী পোকামাকড় সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন বিএআরসির পরিচালক ড. মো. মাহফুজ আলম ও প্রধান প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা আল মোবাচ্ছের হোসেন। এ সময় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএআরএফ) সভাপতি নিজামুল হক, সাধারণ সম্পাদক কাওসার আজমসহ কৃষি বিটের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
























