জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এবার পড়ল নৌযাত্রার ভাড়াতেও। দূরত্বভেদে লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২৩ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে নৌপথে যাতায়াতের সর্বনিম্ন ভাড়া ৩২ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫ টাকা হচ্ছে।
বুধবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে নৌযান মালিক সমিতি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মন্ত্রী জানান, সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। এতে নৌযান পরিচালনার পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও বেড়েছে। এর সঙ্গে ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে নৌযানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের খরচও বেড়েছে। এসব ব্যয়ের চাপ বিবেচনায় নিয়ে মালিকপক্ষ ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিল।
নৌযান মালিকেরা প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে জানান মন্ত্রী। তবে যাত্রীদের আর্থিক সক্ষমতা ও জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সেই দাবির তুলনায় অনেক কম হারে ভাড়া সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, জ্বালানি তেলের দাম ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ বাড়লেও নৌযানের ভাড়া বাড়ছে ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ। তাঁর মতে, যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে নৌযাত্রার ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে নৌযান মালিক সমিতিও সহযোগিতা করেছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত নৌপথে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২৩ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা বাড়বে। পাশাপাশি সর্বনিম্ন ভাড়া ৩ টাকা বাড়িয়ে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে গত রোববার রাতে সরকার জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা বাড়ায়। এর পরদিনই বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানো হয়। এবার সেই ধারাবাহিকতায় লঞ্চের ভাড়াও বাড়ানো হলো।
এর আগে গত এপ্রিলেও জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তখন বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা এবং পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়াও সমন্বয় করা হয়েছিল।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দফায় জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই যাত্রীদের ওপর চাপ কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নৌযানের ভাড়া যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়েছে।
তবে জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে নৌযানের ভাড়া বাড়ানোয় সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তৈরি হবে—এ বিষয়টিও স্বীকার করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, ভাড়া বাড়ানো কখনোই কাম্য নয়। কিন্তু জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে যখন ভাড়া সমন্বয় করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে, তখন যাত্রীদের ওপর প্রভাব যাতে সর্বনিম্ন থাকে, সেটিই বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম বাড়ার অজুহাতে নৌযান মালিকেরা যেন নিজেদের মতো করে ভাড়া বাড়াতে না পারেন, সে বিষয়েও মন্ত্রণালয় নজরদারি করছে।
























