ঢাকা   সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শুধু স্কুলের বই পড়ে মানুষ বড় হয় না: আফজাল হোসেন

বিনোদন

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২১:০১, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শুধু স্কুলের বই পড়ে মানুষ বড় হয় না: আফজাল হোসেন

শিশুদের বেড়ে ওঠায় বই পড়া ও কৌতূহলের গুরুত্ব তুলে ধরে অভিনেতা, পরিচালক ও চিত্রকর আফজাল হোসেন বলেছেন, শুধু স্কুলের পাঠ্যবই পড়ে মানুষ বড় হতে পারে না। একটি দেশের মানুষের মেধা ও মননের বিকাশে বই পড়ার বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার ঢাকার গুলশান-তেজগাঁও লিংক রোডের আলোকি কনভেনশনে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী ‘ছোটকাকু উৎসব ২০২৬’-এর উদ্বোধনী আয়োজনে এসব কথা বলেন আফজাল হোসেন। শিশু-কিশোরদের জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র ‘ছোটকাকু’কে ঘিরে প্রথমবারের মতো এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। উৎসব চলবে মঙ্গলবারও।

উৎসবের প্রথম দিন সকালে ঢাকার কয়েকটি স্কুলের শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে আনন্দ র‍্যালির মাধ্যমে আয়োজন শুরু হয়। র‍্যালিতে আফজাল হোসেনও অংশ নেন। পরে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ‘ছোটকাকু’র স্রষ্টা ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, অন্যপ্রকাশের কর্ণধার মাজহারুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

উৎসবের উদ্দেশ্য তুলে ধরতে গিয়ে বই পড়ার গুরুত্বের প্রসঙ্গ টানেন আফজাল হোসেন। তিনি বলেন, শুরু থেকেই উৎসবের আয়োজনজুড়ে বইকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, বই মানুষের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পড়ার অভ্যাস মানুষের বিকাশের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

আফজাল হোসেন বলেন, শুধু স্কুলের বই পড়ে মানুষ বড় হয়নি, হতে পারে না। পৃথিবীতে অসংখ্য লেখক, বই ও গ্রন্থাগার থাকার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, মানুষ বইয়ের যত কাছে যাবে, সেই দেশ ও মানুষ তত বেশি উন্নত হবে। এ কারণে শিশুদের পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

‘ছোটকাকু’কে ঘিরে এমন আয়োজনের কারণ ব্যাখ্যা করে আফজাল হোসেন বলেন, এটি শুধু একটি চরিত্রকে কেন্দ্র করে উৎসব নয়, বরং এক ধরনের আন্দোলন ও অভিযান। রহস্য উন্মোচনের গল্পের মাধ্যমে শিশুদের দেশপ্রেম, বুদ্ধিমত্তা ও কৌতূহলের প্রতি আগ্রহী করে তোলাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

শিশুদের মনে প্রশ্ন তৈরি হওয়ার গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি। আফজাল বলেন, একটি শিশুর মনে যখন প্রশ্ন জাগে, তখনই সে উত্তর খোঁজার পথে এগোয়। যে উত্তর খোঁজে না, সে কখনো উত্তর পায় না। মানুষের পুরো জীবনই প্রশ্ন ও উত্তরের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়—আর সেই ভাবনাকেই ‘ছোটকাকু উৎসব’-এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

উৎসবে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতা নিয়েও কথা বলেন আফজাল। তাঁর মতে, এসব প্রতিযোগিতা শুধু খেলাধুলা বা পুরস্কার পাওয়ার জন্য নয়; বরং নিজের সাহস, বুদ্ধিমত্তা ও সক্ষমতা যাচাই করার সুযোগ। তবে তিনি প্রতিযোগিতাকে কেবল জয়-পরাজয়ের দৃষ্টিতে দেখতে চান না। তাঁর ভাষায়, এখানে হেরে যাওয়ার বিষয় নেই, বরং আনন্দের মধ্য দিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনই মূল কথা।

উৎসবে শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবক ও পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণের বিষয়টিও তুলে ধরেন আফজাল হোসেন। তিনি বলেন, ছোটরা এই আয়োজনের মূল দর্শক হলেও এটি ছোট-বড় সবার উৎসব। তাঁর মতে, এমন আয়োজন শিশুদের নতুন অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করছে।

প্রথম দিনের আয়োজন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আফজাল হোসেন বলেন, স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে উৎসবটি প্রাণবন্ত হয়েছে। শিশুদের নিজেদের মতো করে আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

উৎসবের মূল মঞ্চের প্রথম দিনের সকালের আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ফরিদুর রেজা সাগর, আফজাল হোসেন, মাজহারুল ইসলাম, কোনাল, সীমান্ত ও উপস্থাপক সামান্থা শারমীন। উপস্থাপক ছাড়া অন্যরা কোনো না কোনোভাবে ‘ছোটকাকু’র বই বা নাটকের সঙ্গে যুক্ত।

বই থেকে পর্দায় ছোটকাকু

‘ছোটকাকু’ চরিত্রের যাত্রা শুরু হয় ২০০৪ সালে ‘কক্সবাজারে কাকাতুয়া’ বই প্রকাশের মধ্য দিয়ে। চরিত্রটির স্রষ্টা ফরিদুর রেজা সাগর। পরে টেলিভিশনের পর্দায় চরিত্রটিকে জীবন্ত করে তোলেন আফজাল হোসেন।

এখন পর্যন্ত ‘ছোটকাকু’কে নিয়ে ৪৮টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫টি বইয়ের গল্পে বাংলাদেশের ৪৫টি জেলা পটভূমি হিসেবে উঠে এসেছে। চরিত্রটিকে ঘিরে টেলিভিশন নাটকও নির্মিত হয়েছে।

চলমান দুই দিনের উৎসবে রয়েছে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ, আড্ডা, আলোচনা ও বিনোদনমূলক আয়োজন। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি পুরো পরিবার নিয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর আগে শনিবার চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উৎসবটির ঘোষণা দেওয়া হয়।