ঢাকা   বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগ: শেয়ারবাজারের তিন কোম্পানির বিরুদ্ধে

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:২০, ৫ নভেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগ: শেয়ারবাজারের তিন কোম্পানির বিরুদ্ধে

শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগ: বেক্সিমকো, এনভয় ও হামিদ গ্রুপের মালিকদের ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ

তালিকায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তিন কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্পগ্রুপের নাম, রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী-এমপিরাও

পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনে অর্থায়ন ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগে দেশের ১২টি শিল্পগ্রুপের মালিকসহ ৩৪ ব্যক্তি ও ৩৪টি পরিবারের ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তালিকায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি বা বেক্সিমকো (BEXIMCO), এনভয় টেক্সটাইলস (ENVOYTEX) এবং হামিদ ফ্যাব্রিকস (HFL)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্পগ্রুপের মালিকদের নামও এসেছে। তবে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এসব তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিজস্ব ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই। 

গত কয়েক দিনে রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসব আন্দোলনে বাইরে থেকে উসকানি ও অর্থায়নের অভিযোগ ওঠার পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এনবিআর সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তালিকায় দেশের কয়েকটি শীর্ষ শিল্পগ্রুপের মালিক, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং রাজনৈতিক কর্মীরা রয়েছেন। তাঁদের কারও কারও বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা কিংবা বিগত সরকারের সময় সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

মঙ্গলবার এনবিআরের এক অনুষ্ঠানে সংস্থাটির চেয়ারম্যান আহসান হাবিব কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগের কথা জানান। তিনি বলেন, বিশেষ একটি কারণে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও আয়কর গোয়েন্দা বিভাগ ৩৪ ব্যক্তি এবং ৩৪টি পরিবারের ব্যাংক হিসাব জব্দ করছে।

রাজস্ব বোর্ডের সূত্রের দাবি, ১২টি শিল্পগ্রুপের মালিক শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য অর্থায়ন করছেন। এ তালিকায় সিপাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির নাম রয়েছে।

একই অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বেসরকারি বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের ব্যাংক হিসাবও জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেক্সিমকো গ্রুপের সঙ্গে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো ছাড়াও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, শাইনপুকুর সিরামিকস ও বেক্সিমকো সিনথেটিকসের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা অন্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—
- এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী। এ গ্রুপের সঙ্গে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এনভয় টেক্সটাইলসের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
- রেনেসা গ্রুপের মালিক ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
- হামিদ গ্রুপের মালিক ও সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। এ গ্রুপের সঙ্গে তালিকাভুক্ত হামিদ ফ্যাব্রিকসের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
- ফেবিয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম।
- তুসুকা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুর রহমান বাদল।
- ওয়েল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আবদুস ছালাম।
- নিপা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খসরু চৌধুরী।
- অ্যাক্সিস নিটওয়্যারস লিমিটেডের পরিচালক জাহিদ আহমেদ টুলু।
- স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের স্ট্যান্ডার্ড হোসেন।
- গিভেন্সি গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুমা খাতুন লিপা।
এ ছাড়া রাজধানীর মিরপুর এলাকায় শ্রমিক আন্দোলনে অর্থ জোগানের অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি এবং শেখ হাসিনার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলমের ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর ভাগনে আলিফ মোল্লা, জাহাঙ্গীর আলমের সহযোগী মাহবুবুর রহমান জুয়েল, স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মী কামাল গাজী এবং শুভ নামে এক ব্যক্তি।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম অনলাইনে আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সমন্বয় করছেন। তাঁর নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫টি হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও ফেসবুক পেজের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানের আন্দোলনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্বে প্রায় ১৫০ ব্যক্তি কাজ করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। এ কারণে বাহাউদ্দিন নাছিমের ব্যাংক হিসাবও জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ব্যাংক হিসাব জব্দের বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে ব্যাংকগুলোকে ই-মেইলের মাধ্যমে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

তবে প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কারও কারও ব্যাংক হিসাব এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) বিভিন্ন সংস্থার মামলায় জব্দ করা হয়েছিল। কয়েকজন কারাগারে রয়েছেন, আবার কেউ দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সর্বশেষ