ঢাকা   রোববার ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সর্বোচ্চ ডিভিডেন্ডেও অলিম্পিকের দরপতন, জিকিউ বলপেনে উল্লম্ফন

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:৩৯, ১১ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

সর্বোচ্চ ডিভিডেন্ডেও অলিম্পিকের দরপতন, জিকিউ বলপেনে উল্লম্ফন

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত চার কোম্পানির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের লভ্যাংশ ঘোষণার পর শেয়ারদরে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এর মধ্যে জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদর বেড়েছে ৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ, আর ডরিন পাওয়ার জেনারেশনের বেড়েছে শূন্য দশমিক ৯৬ শতাংশ। বিপরীতে, সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেও অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদর কমেছে ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের দরও কমেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

চার কোম্পানির মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ। সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ডরিন পাওয়ার জেনারেশন ১৫ শতাংশ, জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ১১ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। তবে সিমটেক্সের উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের জন্য ডিভিডেন্ডের হার ৭ শতাংশ।

জিকিউ বলপেনে সবচেয়ে বেশি উল্লম্ফন

ডিভিডেন্ড ঘোষণার দিন চার কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদর। কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ৩৮ টাকা বা ৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়ে ৬০৯ টাকা ৩০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, ডরিন পাওয়ার জেনারেশনের শেয়ারদর ৩০ পয়সা বা শূন্য দশমিক ৯৬ শতাংশ বেড়ে ৩১ টাকা ৭০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

তবে সর্বোচ্চ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদরে ছিল বিপরীত চিত্র। কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ২ টাকা ১০ পয়সা বা ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমে ১৪১ টাকায় নেমেছে। একইভাবে সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদর ২০ পয়সা কমে ২৪ টাকা ৭০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

চার কোম্পানির আর্থিক চিত্র ও ডিভিডেন্ড

অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ: ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১০ টাকা। ৩০ জুন শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৬৯ টাকা ৩৫ পয়সা। কোম্পানিটি ৩৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩০ নভেম্বর। রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ নভেম্বর।

জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ: আলোচ্য অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১২ পয়সা। ৩০ জুন শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ১৪৩ টাকা ৬০ পয়সা। সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে কোম্পানিটি। আগামী ৩০ নভেম্বর এজিএম অনুষ্ঠিত হবে। রেকর্ড ডেট ৪ নভেম্বর।

সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ: কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ২৫ পয়সা এবং ৩০ জুন শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ২২ টাকা ৭২ পয়সা। সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১১ শতাংশ এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের জন্য ৭ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হয়েছে। কোম্পানিটির এজিএম অনুষ্ঠিত হবে ১৭ ডিসেম্বর। রেকর্ড ডেট ৫ নভেম্বর।

ডরিন পাওয়ার জেনারেশন: ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৫ টাকা ৩ পয়সা। ৩০ জুন শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ৫৭ টাকা ১২ পয়সা। সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে কোম্পানিটি। আগামী ২৪ ডিসেম্বর এজিএম অনুষ্ঠিত হবে। রেকর্ড ডেট ১২ নভেম্বর।

বেশি ডিভিডেন্ড মানেই শেয়ারদর বৃদ্ধি নয়

চার কোম্পানির শেয়ারদরের ওঠানামায় দেখা যাচ্ছে, ডিভিডেন্ড ঘোষণার পর সব শেয়ারে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। জিকিউ বলপেনের শেয়ারদর উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের দর কমেছে।

বিনিয়োগকারীদের কাছে শুধু ডিভিডেন্ডের হারই নয়, কোম্পানির আয়, মুনাফার ধারাবাহিকতা, বর্তমান বাজারদর, মূল্য-আয় অনুপাত এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্ভাবনাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই এক দিনের শেয়ারদরের পরিবর্তন দিয়ে ডিভিডেন্ড ঘোষণার সামগ্রিক প্রভাব নির্ধারণ করা যায় না। বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন ও ঘোষিত লভ্যাংশের শর্ত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

সর্বশেষ