দেশীয় বাজারে বিস্কুট ও পাউরুটির বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও রপ্তানিতে বড় প্রবৃদ্ধি দেখেছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাঙ্গাস লিমিটেড। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির স্থানীয় বাজারে বিক্রি কমেছে ১৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। বিপরীতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৪১ শতাংশ। তবে দেশীয় বাজারে বিক্রি কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে কোম্পানিটির মুনাফায়।
কোম্পানিটির নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্থানীয় বাজারে বিস্কুট ও পাউরুটি বিক্রি হয়েছে ১৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকার। আগের অর্থবছরে এ বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশীয় বাজারে বিক্রি কমেছে ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বা ১৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
অন্যদিকে, একই সময়ে রপ্তানি আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাঙ্গাসের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ৮৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরে কোম্পানিটির রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩৪ লাখ টাকা বা প্রায় ৪১ শতাংশ।
রপ্তানি বাড়লেও কমেছে মুনাফা
দেশীয় বাজারে বিক্রির পতনের প্রভাব পড়েছে কোম্পানিটির সামগ্রিক মুনাফায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাঙ্গাস লিমিটেডের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২৪ পয়সা। আগের অর্থবছরে ইপিএস ছিল ২৮ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ইপিএস কমেছে ৪ পয়সা।
বকেয়া শেয়ারের ভিত্তিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির নিট মুনাফা হয়েছে ১৮ লাখ ২৬ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরে নিট মুনাফা ছিল ২১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। ফলে এক বছরে কোম্পানিটির নিট মুনাফা কমেছে ৩ লাখ ৮ হাজার টাকা বা প্রায় ১৪ শতাংশ।
মুনাফা কমলেও ৩% নগদ লভ্যাংশ
মুনাফা কমলেও সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। তবে এই লভ্যাংশের আওতায় থাকবেন শুধু সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা। স্পনসর-পরিচালকেরা কোনো লভ্যাংশ পাবেন না।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে মোট ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা লভ্যাংশ বিতরণ করা হবে।
এদিকে, ৩০ জুন ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ১০ পয়সা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ঋণাত্মক ২৫ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
১৯ অক্টোবর রেকর্ড ডেট
কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ১২ নভেম্বর হাইব্রিড প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য শেয়ারহোল্ডার নির্ধারণে ১৯ অক্টোবর রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করেছে কোম্পানিটি।
১১৭ টাকার শেয়ার, এনএভি ২১ টাকা
১৯৮৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া বাঙ্গাস লিমিটেড স্থানীয় বাজারে ‘বাঙ্গাস’ ব্র্যান্ডের আওতায় মিষ্টি ও নোনতা বিস্কুট এবং পাউরুটি উৎপাদন করে। কোম্পানিটির পণ্যের মধ্যে রয়েছে গ্র্যান্ড চয়েস, ইভনিং টাচ, লাভলি, ওয়ান্ডার, গ্লুকোজ ও লেক্সাস বিস্কুট।
সর্বশেষ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বাঙ্গাসের শেয়ার ১১৭ টাকা ৪০ পয়সায় লেনদেন শেষ হয়েছে। অথচ কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) ২১ টাকা ১০ পয়সা। অর্থাৎ এনএভির তুলনায় বাজারে কোম্পানিটির শেয়ারদর প্রায় সাড়ে পাঁচ গুণের বেশি দামে লেনদেন হচ্ছে।
ফলে একদিকে দেশীয় বাজারে বিক্রি ও মুনাফা কমেছে, অন্যদিকে রপ্তানি আয় বেড়েছে। এর সঙ্গে কোম্পানিটির বাজারদর ও সম্পদমূল্যের বড় ব্যবধানও বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে উঠেছে।
























