ঢাকা   শুক্রবার ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সৃজনশীল অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচনে সরকারের উদ্যোগ

অর্থ ও বাণিজ্য

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২০:৫২, ৮ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

সৃজনশীল অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচনে সরকারের উদ্যোগ

শিশুদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের পাশাপাশি দেশের থিয়েটার, চলচ্চিত্র, শিল্প এবং প্রান্তিক পর্যায়ের তাঁতি, কামার-কুমারসহ বিভিন্ন কারিগরকে জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করতে ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ নামে নতুন একটি দিগন্ত উন্মোচনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, শিশু একাডেমি এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনের পথরেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশের শিশুরা কীভাবে বেড়ে উঠবে এবং তাদের জীবন গঠনে সরকার কী ধরনের পরিকল্পনা করছে, তার প্রতিফলন ঘটে এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে।

শিশুদের মানবিক গুণাবলি বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ছোটবেলা থেকেই শিশুদের পরিবার, প্রকৃতি, পরিবেশ, পশুপাখি ও কীটপতঙ্গের প্রতি সংবেদনশীল করে গড়ে তুলতে হবে। জলবায়ু, পরিবেশ ও প্রাণিসম্পদ রক্ষায় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতেও বিশেষ নজর দেওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি।

নারীর ক্ষমতায়ন ও ছেলে-মেয়ের সমঅধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, পরিবার থেকেই সন্তানদের মধ্যে কোনো ধরনের বৈষম্য না রেখে সমঅধিকারের চর্চা শুরু করতে হবে। নিজের জীবনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, তাঁর ছেলে ও মেয়েকে উচ্চশিক্ষার জন্য সমান সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং সম্পত্তিতেও তাদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতিচর্চার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশজুড়ে শুরু হওয়া ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার ছেলে-মেয়ে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ হাজারের বেশি মেয়ে।

তিনি বলেন, শুধু পড়াশোনায় নয়, শিল্প, সংগীত, থিয়েটার ও খেলাধুলাতেও শিশুদের দক্ষ করে তুলতে হবে। একটি দেশের প্রকৃত শক্তির অন্যতম ভিত্তি তার সাংস্কৃতিক সক্ষমতা ও সফট পাওয়ার।

সৃজনশীল অর্থনীতি প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ নামে নতুন একটি খাতের দিগন্ত উন্মোচনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর আওতায় থিয়েটার, শিল্প ও চলচ্চিত্রের পাশাপাশি দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের তাঁতি, কামার, কুমারসহ বিভিন্ন কারিগরকে জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, এসব খাতের সঙ্গে যুক্ত মানুষের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এর মাধ্যমে সমাজের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।

বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, সবার সম্মিলিত শক্তি ও ধৈর্যের মাধ্যমে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিশুদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় হবে।

অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগম সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোছাঃ আরজু আরা বেগম।

অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বিজয়ী শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অর্থমন্ত্রী।

সর্বশেষ