ঢাকা   শুক্রবার ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মেয়াদপূর্তির এক মাস আগেই ১,৭১৬ কোটি টাকার বন্ড কিনে নিল সরকার

অর্থ ও বাণিজ্য

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২০:৫৮, ৮ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

মেয়াদপূর্তির এক মাস আগেই ১,৭১৬ কোটি টাকার বন্ড কিনে নিল সরকার

সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনায় নতুন পদক্ষেপ হিসেবে মেয়াদপূর্তির আগেই ১ হাজার ৭১৬ কোটি ১৪ লাখ টাকার ট্রেজারি বন্ড পুনঃক্রয় করেছে সরকার। প্রথমবারের মতো করা এই ‘বাইব্যাক’ কার্যক্রমে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় এক মাস আগেই বন্ডগুলো কিনে নেওয়া হয়েছে। ফলে ওই সময়ের সুদ পরিশোধের প্রয়োজন হবে না, এতে সরকারের ব্যয়ও কমবে।

বৃহস্পতিবার বাইব্যাক নিলামের মাধ্যমে দুই বছর মেয়াদি এসব ট্রেজারি বন্ড কিনে নেয় সরকার। বন্ডগুলোর ক্রেতা ছিল বিভিন্ন সরকারি ব্যাংক।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর ইস্যু করা দুই বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ওপর এ বাইব্যাক নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। নিলামে মোট ৫৬টি আগ্রহপত্রের মাধ্যমে ২ হাজার ১৬ কোটি ১৪ লাখ টাকার আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে নিলাম কমিটির নির্ধারিত দরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ১ হাজার ৭১৬ কোটি ১৪ লাখ টাকার আবেদন গ্রহণ করা হয়।

সাধারণত সরকারি বন্ড মেয়াদপূর্তিতে পরিশোধ করা হয়। তবে এবার মেয়াদ শেষ হওয়ার এক মাস আগেই বন্ডগুলো পুনঃক্রয় করা হয়েছে। ফলে বাকি এক মাসের সুদ পরিশোধ করতে হবে না সরকারের। এতে ঋণ ব্যবস্থাপনার ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিক্রি করা বন্ড মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আবার কিনে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘বাইব্যাক’ বলা হয়। বাংলাদেশে সরকারি ট্রেজারি বন্ডের ক্ষেত্রে এবারই প্রথম এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হলো।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সিকিউরিটিজ বাজারে এ ধরনের বাইব্যাক নিলামের আয়োজনও এবারই প্রথম। এর মাধ্যমে সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনায় নতুন একটি বাজারভিত্তিক পদ্ধতি যুক্ত হলো। এতে সরকারি ঋণের মেয়াদ কাঠামো আরও সুষম করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ অর্থায়ন ব্যবস্থাপনায় নমনীয়তা বাড়বে।

একই সঙ্গে ঋণের খরচ ও ঝুঁকি আরও কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ উদ্যোগ সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও সক্রিয়, আধুনিক ও বাজারভিত্তিক করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সহায়ক হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি ঋণের মেয়াদপূর্তিতে এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধের চাপ কমানো, পুনঃঅর্থায়ন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ পরিশোধের সময়সূচি আরও সুষম করার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সরকারি সিকিউরিটিজ বাজারের দক্ষতাও বাড়বে।

বাজার পরিস্থিতি, তারল্য, বিনিয়োগকারীদের চাহিদা এবং সরকারের ঋণের কাঠামো বিবেচনায় ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী এ ধরনের বাইব্যাক নিলাম আয়োজন করা হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

অর্থ বিভাগের পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক এ বাইব্যাক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমবারের এই সরকারি সিকিউরিটিজ পুনঃক্রয় কার্যক্রম বাংলাদেশের সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

সর্বশেষ