সালমান এফ রহমানকে পরিচালনা পর্ষদ থেকে বাদ দেওয়ার পর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো লিমিটেড ও শাইনপুকুর সিরামিকসের শেয়ারে হঠাৎ চাহিদা বেড়েছে। এতে মাত্র দুই কার্যদিবসে বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারের দাম বেড়েছে ১৪ শতাংশের বেশি। একই সময়ে শাইনপুকুর সিরামিকসের শেয়ারও বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ।
গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সালমান এফ রহমানকে বাদ দিয়ে বেক্সিমকো গ্রুপের মালিকানাধীন বেক্সিমকো লিমিটেড ও শাইনপুকুর সিরামিকসের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে। এর পরদিন থেকেই কোম্পানি দুটির শেয়ারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারের দাম ৮০ পয়সা বা ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। আর বৃহস্পতিবার লেনদেন শুরুর প্রথম দুই ঘণ্টার মধ্যে শেয়ারটির দাম আরও ২ টাকা বা সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বেড়ে যায়। ফলে দুই দিনে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম প্রায় ৩ টাকা বা ১৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
শাইনপুকুর সিরামিকসের শেয়ারেও একই ধরনের উত্থান দেখা গেছে। বুধবার কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় ৯০ পয়সা বা সাড়ে ৪ শতাংশ বাড়ে। বৃহস্পতিবার লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টায় দাম আরও ২ টাকা ১০ পয়সা বা ১০ শতাংশ বেড়ে যায়। এতে দুই দিনে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় ৩ টাকা বা ১৫ শতাংশ বেড়েছে।
লেনদেনেও বাড়তি আগ্রহ
শুধু শেয়ারের দাম নয়, সালমান এফ রহমানকে পর্ষদ থেকে বাদ দেওয়ার খবরের পর কোম্পানি দুটির শেয়ারে লেনদেনও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। এ সময় কোম্পানিটির প্রায় ২০ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়।
একই সময়ে লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় সপ্তম অবস্থানে ছিল শাইনপুকুর সিরামিকস। দুপুর ১২টা পর্যন্ত কোম্পানিটির প্রায় ৭ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
বাজার–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সালমান এফ রহমানকে বেক্সিমকো গ্রুপের কোম্পানিগুলোর পর্ষদ থেকে বাদ দেওয়ার খবরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এর ফলে কোম্পানি দুটির শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে।
তিন কোম্পানির পর্ষদ থেকেই বাদ
বেক্সিমকো লিমিটেড ও শাইনপুকুর সিরামিকসের আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো গ্রুপের আরেক কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালনা পর্ষদ থেকেও সালমান এফ রহমানকে বাদ দেওয়া হয়। ফলে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো গ্রুপের তিন কোম্পানির পর্ষদ থেকেই তিনি বাদ পড়েছেন।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে বিএসইসি তাঁকে শেয়ারবাজারে ‘আজীবন অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বেক্সিমকো গ্রুপ যে প্রতিকূলতার মুখে পড়েছে, তা বিবেচনায় সালমান এফ রহমান পর্ষদ থেকে সরে যেতে সম্মত হন। তাঁর কারণে যাতে কোম্পানির ব্যবসা ও শেয়ারধারীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো গ্রুপের তিন কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। তবে নতুন করে গঠিত পর্ষদেও সালমান এফ রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের অনেকে রয়েছেন।
























