আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যেই পাঁচ ইসলামী ব্যাংককে আনুষ্ঠানিকভাবে একীভূত করে একটি একক ও শক্তিশালী ব্যাংকে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রশাসকেরাও পাঁচ ব্যাংক থেকে সরে গিয়ে নিজেদের মূল কর্মস্থলে ফিরেছেন।
আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থতা ও আর্থিক দুর্বলতার কারণে এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শাইরুল হাসান জানিয়েছেন, একীভূতকরণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে পুরোদমে শুরু হয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে পাঁচ ব্যাংককে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি একক ও শক্তিশালী ব্যাংকে রূপান্তর করাই এখন মূল লক্ষ্য।
পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর প্রথমে স্বতন্ত্র পরিচালক এবং পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। গত ১৬ জুলাই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে মো. আবেদুর রহমান সিকদার দায়িত্ব নেওয়ার পর ধাপে ধাপে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করা হয়।
বর্তমানে পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে শুধু এক্সিম ব্যাংকে একজন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক রয়েছেন। অন্য চার ব্যাংকে এ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা নেই। নতুন এমডি এক্সিম ব্যাংকের কার্যালয় থেকে দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য চার ব্যাংকের কার্যক্রমও তদারকি করছেন।
তবে পাঁচ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় রাজধানীর মতিঝিল, গুলশান ও মহাখালী এলাকায় পৃথকভাবে অবস্থিত হওয়ায় একজন এমডির পক্ষে সব ব্যাংকের কার্যক্রম একসঙ্গে পরিচালনা করা কঠিন। এ কারণে দ্রুত শীর্ষ পর্যায়ে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
চেয়ারম্যান কাজী শাইরুল হাসান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এখন আর সরাসরি পাঁচ ব্যাংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করবে না। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে পূর্ণাঙ্গ তদারকি অব্যাহত থাকবে। দ্রুত জ্যেষ্ঠ পর্যায়ে চার থেকে পাঁচজন নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি পুরোনো কর্মকর্তাদেরও সক্রিয় করে কাজে ফেরানোর চেষ্টা চলছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হবে আমানতকারীদের।
পাঁচ ব্যাংকে আমানতকারীদের মোট জমা প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে পাঁচ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা, যা তাদের মোট বিতরণ করা ঋণের ৮৪ দশমিক ২২ শতাংশ।
দেশজুড়ে পাঁচ ব্যাংকের মোট ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ রয়েছে। ফলে একীভূত হওয়ার পর নতুন ব্যাংকটির কার্যক্রমের পরিধি হবে বেশ বড়।
খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, একীভূতকরণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর ওপর কঠোর ও নিবিড় তদারকি বজায় রাখা জরুরি। দীর্ঘদিনের এই উদ্যোগে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে পুরো প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংক খাতেও নতুন করে আস্থার সংকট দেখা দিতে পারে।























