ঢাকা   রোববার ১৬ আগস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩

গ্যাসসংকট কাটাতে অবকাঠামো গড়তে লাগবে দুই বছর: বাণিজ্যমন্ত্রী

গ্যাসসংকট কাটাতে অবকাঠামো গড়তে লাগবে দুই বছর: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের চলমান গ্যাসসংকট থেকে স্থায়ীভাবে বের হতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের এই সংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়; এটি ‘উত্তরাধিকার সূত্রে’ পাওয়া সমস্যা। তবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে আগামী দুই বছরের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সিলেট নগরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত ‘আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জেলা পর্যায়ের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বিগত বছরের বাস্তবায়ন মূল্যায়ন বিষয়ক জেলা কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের বিভিন্ন মিল ও শিল্প-কারখানা গ্যাসসংকটে ভুগছে—এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিনের এই সংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়; বরং উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। তবে সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রচলিত চিন্তার বাইরে গিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে স্থায়ীভাবে সংকট থেকে বের হতে হলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে এবং এ জন্য নির্দিষ্ট সময় দিতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, গ্যাসসংকটের স্থায়ী সমাধানে যে অবকাঠামো প্রয়োজন, তা নির্মাণে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে আপৎকালীন ব্যবস্থার বিষয়েও সরকার কাজ করছে।

মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আনার চেষ্টা

মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আনার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার ছোট আকারের জাহাজগুলো বর্তমানে অন্য কাজে নিয়োজিত রয়েছে। ফলে সেখান থেকে দ্রুত গ্যাস আনার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে সাময়িকভাবে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি করা যায় কি না, সে বিষয়ে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আপৎকালীন কোনো ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা নিয়ে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে গ্যাসসংকটের স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজও এগিয়ে নিতে হবে।

সিলেটের কৃষিতে অব্যবহৃত জমি কাজে লাগানোর তাগিদ

এর আগে কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট অঞ্চলে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পতিত ও এক ফসলি জমি রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে হাওর ও নিম্নাঞ্চলের অনেক এলাকায় বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে পানি জমে থাকে। এসব এলাকার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে বিপুল পরিমাণ জমি চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব।

তিনি বলেন, একইভাবে সেচের অভাবে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে যেসব জমি অনাবাদি পড়ে থাকে, সেখানে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এক ফসলি জমিকে দুই ফসলি এবং দুই ফসলি জমিকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করা সম্ভব।

জলাবদ্ধতার পানি নিষ্কাশন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানি নিশ্চিত করতে খাল খনন কার্যকর সমাধান হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সিলেটে তরমুজ চাষের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন ও অপ্রচলিত কৃষিপণ্যের সম্ভাবনার একটি ভালো উদাহরণ হচ্ছে তরমুজ চাষ। আগাম তরমুজ উৎপাদনের মাধ্যমে সিলেটের কৃষকেরা দেশের বাজারে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন।