ঢাকা   সোমবার ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩

ডিএসইর লেনদেনে ৯১ শতাংশই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের

ডিএসইর লেনদেনে ৯১ শতাংশই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পতন হয়েছে। তবে সূচক কমলেও আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে লেনদেন। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৬০ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

দিন শেষে ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। আগের কার্যদিবসের তুলনায় যা ২০৫ কোটি টাকা বা প্রায় ২২ শতাংশ বেশি। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণই এদিন লেনদেন বাড়ার অন্যতম কারণ।

ডিএসইর পরিসংখ্যান বলছে, রোববার ঢাকার বাজারের মোট লেনদেনের প্রায় ৯১ শতাংশই এসেছে ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। বিপরীতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশ ছিল প্রায় ৬ শতাংশ। ডিলারদের অংশ প্রায় দেড় শতাংশ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশ ছিল প্রায় ১ শতাংশ।

লেনদেনের ধরন বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এদিন শেয়ার বিক্রির তুলনায় কেনাকাটায় বেশি সক্রিয় ছিলেন। অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা কেনার চেয়ে বেশি শেয়ার বিক্রি করেছেন। একই প্রবণতা দেখা গেছে ডিলার ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রেও।

এদিকে লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের তথ্য অনুযায়ী, রোববার ডিএসইএক্সের পতনে বড় প্রভাব ছিল কয়েকটি ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারে। সূচক কমাতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখা ১০ কোম্পানি হলো—শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, জেএমআই হসপিটাল, ডমিনেজ স্টিল, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, এমএল ডায়িং ও ফার কেমিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ।

এই ১০ কোম্পানির শেয়ারের দরপতনের কারণে ডিএসইএক্স প্রায় ১৩ পয়েন্ট কমেছে। অর্থাৎ দিনের মোট ২৪ পয়েন্ট পতনের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি এসেছে এই ১০ কোম্পানি থেকে।

তবে বাজারের সার্বিক পতনের মধ্যেও তুলনামূলক শক্তিশালী ছিল বিমা খাত। রোববার এ খাতের ৫৮টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪টির দর বেড়েছে, কমেছে ২১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩টির দাম। এমনকি দিনের মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকাতেও ছিল বিমা খাতের ৭টি প্রতিষ্ঠান।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, বিমা খাতের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে শেয়ারের বিপরীতে ঋণসুবিধা–সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ইতোমধ্যে এ-সংক্রান্ত নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে। এখন সেটি গেজেট আকারে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের ধারণা, গেজেট প্রকাশের পর নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে বিমা কোম্পানির শেয়ারের বিপরীতে ঋণসুবিধার বিষয়টি নতুনভাবে সমন্বিত হবে। এ খবরকে কেন্দ্র করেই সাম্প্রতিক কয়েক দিনে বিমা খাতের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।