ঋণের আসল-সুদ পরিশোধের পরও অনাপত্তিপত্র না দেওয়া, অতিরিক্ত ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ‘গোপন সুদ’ দাবি এবং সিআইবি প্রতিবেদনে খেলাপি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইপিডিসি ফাইন্যান্সের বিরুদ্ধে। আল হাবিব এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. হাবিবুর রহমানের অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিলেও আইপিডিসি তা যথাযথভাবে আমলে নেয়নি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আইপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেছেন, নিয়ম মেনেই সুদ সমন্বয় ও খেলাপি হিসেবে রিপোর্ট করা হয়েছে।
দেশের ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা লিজিং কোম্পানিগুলো শিল্প-বাণিজ্যে অর্থায়নের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক চাহিদা পূরণে এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা বাড়ছে। তবে ঋণের সুদহার, কিস্তি নির্ধারণ এবং পরিশোধের পর গ্রাহককে অনাপত্তিপত্র দেওয়ার মতো বিষয় নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে তা গ্রাহকের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। আইপিডিসি ফাইন্যান্স ও আল হাবিব এন্টারপ্রাইজের বিরোধটি এমনই একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে।
রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আল হাবিব এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, আইপিডিসি ফাইন্যান্স থেকে নেওয়া দুটি ঋণের বিপরীতে চুক্তি অনুযায়ী সুদসহ পুরো অর্থ পরিশোধ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি এখন অতিরিক্ত ১ কোটি ৫ লাখ টাকা দাবি করছে। এই অর্থ পরিশোধ না করলে গাড়ির মালিকানা বুঝিয়ে না দেওয়ার পাশাপাশি সিআইবি প্রতিবেদনে খেলাপি হিসেবে দেখানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
৮ কোটি ৪০ লাখ ঋণ, পরিশোধ ১০ কোটি ৮৩ লাখ
হাবিবুর রহমানের লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে গাড়ি কেনার জন্য আইপিডিসি ফাইন্যান্স থেকে ৬০টি কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ সুদে ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঋণ নেয় আল হাবিব এন্টারপ্রাইজ। ঋণের অর্থে নিটল টাটা থেকে ১০টি গাড়ি কেনা হয় এবং গাড়ির মূল্য সরাসরি নিটল টাটাকে পরিশোধ করে আইপিডিসি।
ঋণ ছাড়ের আগেই প্রতি কিস্তির জন্য ৭ লাখ ৩০ হাজার ৭৯৩ টাকা করে ৬০টি চেক নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন হাবিবুর রহমান। পরে গত ৩০ জুন ওই ঋণের সর্বশেষ কিস্তিসহ সুদ-আসলে মোট ৪ কোটি ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮০ টাকা আইপিডিসিকে পরিশোধ করা হয়।
এরপর ২০১৭ সালের জুলাইয়ে একইভাবে গাড়ি কেনার জন্য আরও ৫ কোটি টাকা ঋণ নেয় আল হাবিব এন্টারপ্রাইজ। এ ঋণের সুদের হারও ছিল ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং পরিশোধের মেয়াদ ছিল ৬০ কিস্তি। এ ক্ষেত্রেও ঋণ ছাড়ের আগে প্রতি কিস্তির জন্য ১০ লাখ ৭৪ হাজার ৬৯৫ টাকা করে ৬০টি চেক নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
দ্বিতীয় ঋণের অর্থ দিয়ে র্যাংগস মটরস থেকে ১৫টি গাড়ি কেনা হয় এবং গাড়ির মূল্য সরাসরি র্যাংগস মটরসকে পরিশোধ করে আইপিডিসি। গত ৩০ অক্টোবর ওই ঋণের সর্বশেষ কিস্তিসহ সুদ-আসলে মোট ৬ কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ৭০০ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানান হাবিবুর রহমান।
অর্থাৎ ২৫টি গাড়ি কেনার জন্য আইপিডিসি থেকে নেওয়া মোট ৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঋণের বিপরীতে নির্ধারিত মেয়াদে সুদ-আসলে মোট প্রায় ১০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে দাবি আল হাবিব এন্টারপ্রাইজের।
পরিশোধের পরও কেন ‘অতিরিক্ত’ টাকা?
হাবিবুর রহমানের অভিযোগ, দুটি ঋণের অর্থ পুরোপুরি পরিশোধের পর অনাপত্তিপত্র চাওয়া হলে আইপিডিসি প্রথমে সময়ক্ষেপণ করে। পরে তাদের জানানো হয়, ঋণের সুদের হার ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৪ শতাংশ করা হয়েছে। সেই হিসাবে অতিরিক্ত অর্থ পাওনা রয়েছে বলে আইপিডিসি দাবি করে।
তাঁর দাবি, সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি এবং তাদের সম্মতিও নেওয়া হয়নি। এমনকি সুদের হার বাড়ানোর পর কিস্তির পরিমাণও বাড়ানো হয়নি। ফলে ঋণের পুরো মেয়াদে নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধের পর হঠাৎ অতিরিক্ত অর্থ দাবি করার যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
হাবিবুর রহমানের অভিযোগ, অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ না করলে গাড়ির মালিকানা বুঝিয়ে না দেওয়ার পাশাপাশি সিআইবিতে খেলাপি হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করার হুমকি দেওয়া হয়। তাঁর ভাষায়, এ পরিস্থিতি তাঁকে ও তাঁর প্রতিষ্ঠানকে ‘জিম্মি’ করার শামিল।
করোনাকালীন সুবিধা নিয়েও প্রশ্ন
আল হাবিব এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আরও অভিযোগ করেন, করোনাকালীন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিভিন্ন সুবিধা ও নীতিগত সহায়তা দিলেও তাঁর প্রতিষ্ঠান আইপিডিসির কাছ থেকে কোনো সুবিধা পায়নি।
তিনি দাবি করেন, করোনা মহামারির সময় সুদের হার কমানোর নীতির বিপরীতে আইপিডিসি গোপনে তাঁদের ঋণের সুদের হার বাড়িয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিষয়টি নীতিনৈতিকতা ও প্রচলিত আর্থিক নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপের পরও সমাধান হয়নি
অতিরিক্ত সুদ ও সিআইবি-সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন হাবিবুর রহমান। তাঁর দাবি, গত ২ নভেম্বর বিষয়টি গ্রাহক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কের ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইপিডিসিকে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
এরপর গত ২৯ ডিসেম্বর গুলশানে আইপিডিসির প্রধান কার্যালয়ে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক হয়। হাবিবুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে আইপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। বৈঠকে অতিরিক্ত অর্থ দাবির বিষয়ে আইপিডিসি কর্তৃপক্ষ তাঁর প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
পরে আইপিডিসির হেড অব কালেকশন-বিজনেস ফাইন্যান্স রফিকুল ইসলাম গত ৫ জানুয়ারি অতিরিক্ত সাড়ে ৩ শতাংশ হারে আরোপিত সুদ থেকে ৫ লাখ টাকা মওকুফের প্রস্তাব দেন বলে জানান হাবিবুর রহমান। তাঁর প্রশ্ন, তিনি যখন ঋণের পরিমাণ কমানোর আবেদনই করেননি, তখন এ ধরনের মওকুফের প্রস্তাবের যৌক্তিকতা কী।
সিআইবি প্রতিবেদনে খেলাপি দেখানোর অভিযোগ
হাবিবুর রহমান আরও বলেন, আইপিডিসি ফাইন্যান্স থেকে এর আগে তাঁর প্রতিষ্ঠান দুই দফায় ১২ কোটি টাকা ও ১৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল এবং তা পরিশোধও করা হয়। সেসব ঋণ নিয়ে কোনো জটিলতা হয়নি।
কিন্তু বর্তমান বিরোধ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করার পর পরিস্থিতি বদলে যায় বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, আইপিডিসির পক্ষ থেকে সিআইবিতে খেলাপি করার এবং ব্যবসা কীভাবে পরিচালনা করেন তা দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি পাওয়ার পর তাঁর ১০০, ৬১১০০০০০৫১১৪ নম্বর অ্যাকাউন্টে কোনো কিস্তি বকেয়া না থাকা সত্ত্বেও বেআইনিভাবে খেলাপি হিসেবে রিপোর্ট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তাঁর দাবি, চুক্তি অনুযায়ী আইপিডিসির কাছে তাঁর প্রতিষ্ঠানের কোনো অর্থ পাওনা নেই। অতিরিক্ত অর্থের দাবি ও সিআইবি প্রতিবেদনে খেলাপি দেখানোর ঘটনা তাঁর প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সুনাম ও কার্যক্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
আইপিডিসির বক্তব্য: অভিযোগ সত্য নয়
তবে আল হাবিব এন্টারপ্রাইজের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আল হাবিব এন্টারপ্রাইজের পক্ষ থেকে করা অভিযোগ সত্য নয়।
তিনি জানান, বিভিন্ন সময়ে সুদের হার বেড়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী তা সমন্বয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শর্ত মেনেই সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে খেলাপি হিসেবে রিপোর্ট করা হয়েছে। আইপিডিসির পক্ষ থেকে কোনো নিয়মবহির্ভূত কাজ করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
ফলে বিরোধের মূল জায়গাটি এখন দাঁড়িয়েছে—ঋণের চুক্তিতে সুদের হার পরিবর্তনের শর্ত কী ছিল, তা গ্রাহককে যথাযথভাবে জানানো হয়েছিল কি না, নির্ধারিত কিস্তির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবির ভিত্তি কী এবং ঋণ পরিশোধের পরও কেন অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়নি।
পুঁজিবাজারে আইপিডিসি: আর্থিক সক্ষমতা কেমন
আল হাবিব এন্টারপ্রাইজের অভিযোগের পাশাপাশি পুঁজিবাজারে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট ২০২৬ আইপিডিসির শেয়ারদর ছিল ৩৩ টাকা। ওই দিন শেয়ারটির দর ২ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়েছে। ৫২ সপ্তাহে শেয়ারটির সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দর ছিল যথাক্রমে ৩৬ টাকা ৫০ পয়সা ও ১৭ টাকা ৪০ পয়সা।
কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন প্রায় ৪২৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা এবং অনুমোদিত মূলধন ৮০০ কোটি টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ২৯ লাখ ৫৮ হাজার। ১৩ আগস্ট কোম্পানিটির বাজার মূলধন ছিল প্রায় ১ হাজার ৩৮৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাবে আইপিডিসির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ১ টাকা ১১ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) ছিল ১৭ টাকা ৮৫ পয়সা। ওই বছর কোম্পানিটির মুনাফা ছিল প্রায় ৪৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৮ পয়সা। এর মধ্যে প্রথম প্রান্তিকে ইপিএস ছিল ১৬ পয়সা এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩৩ পয়সা।
২০২৫ সালের জন্য কোম্পানিটি ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর আগে ২০২৪ ও ২০২৩ সালেও ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছিল।
কোম্পানিটির ২০২৫ সালের হিসাবে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ হাজার ৬৭৪ কোটি ৯ লাখ টাকা। একই সময়ে রিজার্ভ ও সারপ্লাস ছিল প্রায় ২৬০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
শেয়ারহোল্ডিংয়ের দিক থেকে ৩০ জুন ২০২৬ অনুযায়ী স্পনসর ও পরিচালকদের হাতে ছিল ৪০ শতাংশ, সরকারের ২১ দশমিক ৮৮ শতাংশ, প্রতিষ্ঠানের হাতে ২৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ, বিদেশিদের ০ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ছিল ১৪ দশমিক ১১ শতাংশ শেয়ার।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
একটি ঋণের অর্থ পরিশোধের পরও সুদ নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু ঋণগ্রহীতা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বিশেষ করে সিআইবি প্রতিবেদনে কোনো প্রতিষ্ঠানকে খেলাপি হিসেবে দেখানো হলে ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকঋণ, নতুন অর্থায়ন, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এবং সামগ্রিক ব্যবসায়িক সক্ষমতার ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
এ কারণে আল হাবিব এন্টারপ্রাইজের অভিযোগের সত্যতা, ঋণচুক্তির শর্ত, সুদের হার পরিবর্তনের প্রক্রিয়া, কিস্তি পুনর্নির্ধারণের বিষয় এবং সিআইবি প্রতিবেদনে খেলাপি করার ভিত্তি—সবকিছুই নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আইপিডিসির বক্তব্য ও তাদের কাছে থাকা ঋণসংক্রান্ত নথিও পর্যালোচনা করা জরুরি।
শেষ কথা
আল হাবিব এন্টারপ্রাইজের অভিযোগ সত্য হলে ঋণ পরিশোধের পর অতিরিক্ত সুদ দাবি ও সিআইবিতে খেলাপি দেখানোর বিষয়টি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সংকট নয়; এটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহকের মধ্যে স্বচ্ছতা, চুক্তির শর্ত এবং নিয়ন্ত্রক তদারকির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলবে।
অন্যদিকে আইপিডিসি যেহেতু অভিযোগগুলো সরাসরি অস্বীকার করেছে এবং নিয়ম মেনেই সুদ সমন্বয় ও খেলাপি রিপোর্ট করার দাবি করেছে, তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে উভয় পক্ষের নথি যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অভিযোগ ও পরবর্তী বৈঠকের প্রেক্ষাপটে বিষয়টির একটি স্বচ্ছ ও নথিভিত্তিক নিষ্পত্তিই পারে বিরোধটির প্রকৃত সত্য সামনে আনতে।























