ঢাকা   বৃহস্পতিবার ১৮ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

দেশের শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২০:৩৩, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ

দেশের শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রচলিত মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে প্রকল্পভিত্তিক ও দক্ষতানির্ভর শিক্ষার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে দেশের শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বাস্তব দক্ষতা এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই এ পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য।

তিনি জানান, সরকার শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেছে। গত অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরে বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। বর্তমানে এটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২ শতাংশ।

এহছানুল হক মিলন বলেন, সরকারের লক্ষ্য পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৩.৫ শতাংশ, পরে ৪ শতাংশ এবং শেষ পর্যন্ত ৫ শতাংশে উন্নীত করা। তবে শুধু বরাদ্দ বাড়ানো নয়, বরং প্রতিটি টাকার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করাই সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ জনশক্তি সংকটে ভুগলেও বাংলাদেশে বিশাল জনসম্পদ রয়েছে। এই জনসম্পদকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার (টিভেট) গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, টেকসই আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। এ খাতের উন্নয়নে চলতি বাজেটে ১৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও নতুন আবাসিক হল নির্মাণের বিষয়ে সরকার কাজ করছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য নতুন প্রকল্প গ্রহণের বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য এখন থেকেই নিজেদের যোগ্য ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ