মুক্তির আগেই বক্স অফিসে আলোড়ন তুলেছে নতুন ‘রেসিডেন্ট এভিল’। জনপ্রিয় ভিডিও গেম অবলম্বনে নির্মিত হরর সিনেমাটি প্রিভিউ প্রদর্শনী থেকেই আয় করেছে ৮৮ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১০৮ কোটি টাকা। এই আয় ‘রেসিডেন্ট এভিল’ ফ্র্যাঞ্চাইজির আগের সব সিনেমার প্রিভিউ আয়ের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
শুধু ফ্র্যাঞ্চাইজির রেকর্ডই নয়, নতুন সিনেমাটি নির্মাতা জ্যাক ক্রেগারের ক্যারিয়ারেও বড় উদ্বোধনের পথে রয়েছে। ‘ওয়েপনস’–এর সাফল্যের পর এবার তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন ‘রেসিডেন্ট এভিল’–এর নতুন কিস্তির।
বক্স অফিস বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম সপ্তাহান্তে সিনেমাটি ৪ থেকে ৫ কোটি ডলার আয় করতে পারে। দর্শক ও সমালোচকদের ইতিবাচক সাড়া অব্যাহত থাকলে সেই আয় ৬ কোটি ডলার পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।
প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার বাজেটে নির্মিত সিনেমাটি প্রত্যাশা পূরণ করলে জ্যাক ক্রেগারের জন্য এটি হবে টানা দ্বিতীয় বড় সাফল্য। এর আগে গত বছর তাঁর নির্মিত হরর সিনেমা ‘ওয়েপনস’ ৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার আয় দিয়ে যাত্রা শুরু করে। শেষ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির আয় দাঁড়ায় প্রায় ২৭ কোটি ডলারে।
‘ওয়েপনস’ মুক্তির আগে প্রিভিউ প্রদর্শনী থেকে আয় করেছিল ৫৭ লাখ ডলার। সেখানে নতুন ‘রেসিডেন্ট এভিল’–এর প্রিভিউ আয় ৮৮ লাখ ডলার হওয়ায় সিনেমাটিকে ঘিরে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।
নতুন কিস্তিটি সফল হলে ‘রেসিডেন্ট এভিল’ সিরিজের বক্স অফিস ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় যোগ হতে পারে। ১৯৯৬ সালে ভিডিও গেম হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই ফ্র্যাঞ্চাইজিতে এরই মধ্যে এসেছে একাধিক সিকুয়েল, স্পিন-অফ ও রিমেক। পরবর্তী সময়ে গেমটির কাহিনি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনেও বিস্তৃত হয়।
বড় পর্দায় ‘রেসিডেন্ট এভিল’ সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পায় ২০০০ ও ২০১০-এর দশকে মিলা জোভোভিচ অভিনীত আটটি সিনেমার মাধ্যমে। এসব সিনেমার বেশির ভাগই পরিচালনা করেন পল ডব্লিউ এস অ্যান্ডারসন। একসময় ভিডিও গেমভিত্তিক চলচ্চিত্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় করা সিরিজের রেকর্ডও ছিল ‘রেসিডেন্ট এভিল’–এর দখলে। পরে ‘সুপার মারিও’ সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়।
তবে এখনো ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমা ২০১০ সালের ‘রেসিডেন্ট এভিল: আফটারলাইফ’। উত্তর আমেরিকায় ২ কোটি ৬০ লাখ ডলার দিয়ে যাত্রা শুরু করা ছবিটি বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩০ কোটি ডলার আয় করেছিল।
নতুন সিনেমায় ‘ওয়েপনস’–খ্যাত অভিনেতা অস্টিন আব্রামসকে দেখা যাবে ব্রায়ান চরিত্রে। পেশায় তিনি একজন মেডিক্যাল কুরিয়ার। একটি রহস্যময় প্যাকেট পৌঁছে দিতে গিয়ে ব্রায়ান এমন এক শহরে প্রবেশ করেন, যেখানে ভয়াবহ জম্বি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর সংক্রমিত শহর থেকে বেঁচে বেরিয়ে আসার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
চলতি সপ্তাহান্তে বক্স অফিসের শীর্ষস্থান দখলের দৌড়েও এগিয়ে রয়েছে নতুন ‘রেসিডেন্ট এভিল’। গত সপ্তাহে মুক্তি পাওয়া ‘প্র্যাকটিক্যাল ম্যাজিক ২’ প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যবসা করতে না পারায় নতুন সিনেমাটির সামনে শীর্ষস্থান দখলের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে মুক্তির আগেই রেকর্ড প্রিভিউ আয়, বড় বাজেট এবং জনপ্রিয় গেমভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজির পরিচিতি—সব মিলিয়ে নতুন ‘রেসিডেন্ট এভিল’ ঘিরে দর্শক ও বক্স অফিস বিশ্লেষকদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে।
























