ঢাকা   সোমবার ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩

ছয় মাসে সরকারের গতি-অগ্রগতি হতাশাজনক: এবি পার্টি

রাজনীতি

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৮:১০, ১৭ আগস্ট ২০২৬

ছয় মাসে সরকারের গতি-অগ্রগতি হতাশাজনক: এবি পার্টি

অন্তর্বর্তী সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ডে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি বলে মন্তব্য করেছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, সরকারের পূর্ণাঙ্গ সফলতা বা ব্যর্থতার হিসাব করার জন্য এখনো সময় আছে। তবে ছয় মাসের সার্বিক মূল্যায়নে সরকারের গতি ও অগ্রগতি হতাশাজনক।

সোমবার সকালে রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘সরকারের ছয় মাস: প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা! জনগণের সামনে পূর্ণাঙ্গ খতিয়ান’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকারের মূল্যায়নের জন্য ছয় মাস কম সময় নয়। তবে এই সময়ের ভিত্তিতে সরকারের চূড়ান্ত সফলতা বা ব্যর্থতার সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক হবে না। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারের কার্যক্রমে বাংলাদেশের স্বার্থের চেয়ে দলীয়তন্ত্রকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য, শাসনব্যবস্থা, উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং গণতান্ত্রিক চর্চাসহ বিভিন্ন সূচকে গত ছয় মাসে আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। বরং কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে বলে দাবি করে দলটি।

বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ করে এবি পার্টি। দলটির নেতারা বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটে শত শত কলকারখানা বন্ধ হয়েছে। পাশাপাশি এক হাজারের বেশি নতুন কারখানা চালুর বিষয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে বলেও দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। তবে ব্যয় বাড়লেও মানুষের জীবনমানের উন্নতি হয়নি, বরং অবনতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন নেতারা।

প্রশাসনে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয়করণ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতার অভিযোগ তুলে সরকারের সুশাসন নিয়েও প্রশ্ন তোলে এবি পার্টি।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকার নতুন কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে বেকারত্ব কমেনি, বরং বেড়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে আলোচনায় বসার পরামর্শ দেওয়া হলেও সরকার তা আমলে নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সমালোচনা করে সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ধর্মীয় পুরোহিতদের ভাতাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও এসব কর্মসূচির কাঙ্ক্ষিত প্রভাব সমাজে দৃশ্যমান নয়। উল্টো এসব কার্যক্রম নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে বলে দাবি করেন তারা।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, সরকার যেভাবে দেশ পরিচালনা করছে, তাতে বিরোধী দলের আন্দোলনের প্রয়োজন নাও হতে পারে। জনদুর্ভোগ বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষই ধৈর্য হারিয়ে রাস্তায় নামতে পারেন।

সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, দেশে আবারও রাজনৈতিক সহিংসতার সংস্কৃতি ফিরে আসছে, যা কাম্য নয়। তবে এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় থাকাকে ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ভবিষ্যতেও সরকার যেন এই সহনশীলতা বজায় রাখে, সে আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা উপস্থিত ছিলেন।