ঢাকা   বৃহস্পতিবার ১৮ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে লাভবান হবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজনীতি

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২০:২৮, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে লাভবান হবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) চুক্তি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনের শুরুতেই প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত এআরটি চুক্তির আওতায় মার্কিন তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শূন্য শুল্কসুবিধা নিশ্চিত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি জানান, বাজার সম্প্রসারণ এবং শুল্কসুবিধা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (পিটিএ), ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (এফটিএ) এবং কম্প্রেহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ চলমান রয়েছে।

খলিলুর রহমান বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সিইপিএ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে জিসিসি, মারকোসুর এবং অন্যান্য আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোটের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

অর্থনৈতিক কূটনীতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থানমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিডা, বেজা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ইউরোপ ও আমেরিকার প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য এশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের উদীয়মান বাজারেও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে কৃষিপণ্য ও অপ্রচলিত রপ্তানি খাতেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। সম্প্রতি ভিয়েতনামের বাজারে বাংলাদেশের আলু রপ্তানির সুযোগ উন্মুক্ত হয়েছে এবং মালয়েশিয়ায় আম রপ্তানির বিষয়ে কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে মিয়ানমারের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আরাকান আর্মির প্রধান উভয়েই প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, যা অতীতে ঘটেনি।

এদিকে বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন পরিচালনা প্রসঙ্গে খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে ১৭টি দেশের ২০টি মিশন নিজস্ব ভবনে পরিচালিত হচ্ছে এবং আরও চারটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। বাকি মিশনগুলো ভাড়াকৃত ভবনে পরিচালিত হওয়ায় সরকারকে বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়।

তিনি বলেন, বিদেশে নিজস্ব কূটনৈতিক স্থাপনা প্রতিষ্ঠাকে সরকার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশে চ্যান্সারি ভবন ও কূটনৈতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও মর্যাদা বৃদ্ধি করবে।

সর্বশেষ