ঢাকা   রোববার ০২ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় নতুন আইন আনছে সরকার

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৪৭, ২ আগস্ট ২০২৬

পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় নতুন আইন আনছে সরকার

পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ আরও সুরক্ষিত করতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ জানিয়েছে, বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড (সিএমএসএফ)-কে আরও কার্যকর, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার পাশাপাশি অব্যবহৃত নগদ লভ্যাংশ, শেয়ার এবং অন্যান্য আর্থিক সম্পদের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এ আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।

বর্তমানে খসড়াটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে প্রকাশ করা হয়েছে এবং এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে নীতিগত পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আইনটি কার্যকর হলে সিএমএসএফ দেশের পুঁজিবাজারে একটি আধুনিক কেন্দ্রীয় নগদ লভ্যাংশ বিতরণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারবে। এর ফলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ বিতরণ প্রক্রিয়া আরও ডিজিটাল, স্বচ্ছ ও কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হবে।

এ ছাড়া বিনিয়োগকারীরা একটি অর্থবছরে প্রাপ্ত লভ্যাংশের ওপর উৎসে কাটা করের চালান ও কর কর্তন সনদ একটি একক প্ল্যাটফর্ম থেকেই সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে করসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং স্বচ্ছতাও বাড়বে।

খসড়া আইনে সিএমএসএফকে একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক কাঠামো, পরিচালনা, তদারকি ও জবাবদিহিকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা নগদ লভ্যাংশ, বোনাস শেয়ার, রাইটস শেয়ার, রিফান্ডের অর্থ, আইপিও এবং কোয়ালিফায়েড ইনভেস্টর অফারের (কিউআইও) অনাদায়ী অর্থসহ বিভিন্ন আর্থিক সম্পদ সিএমএসএফের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। তবে প্রকৃত মালিক বা উত্তরাধিকারীরা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করলে যাচাই-বাছাই শেষে এসব সম্পদ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

আইন অনুযায়ী, ফান্ড পরিচালনার জন্য একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হবে। এতে চেয়ারম্যান, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, আর্থিক ও পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং স্বতন্ত্র সদস্য থাকবেন। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ফান্ডের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

প্রস্তাবিত আইনে আরও বলা হয়েছে, সিএমএসএফের অর্থ পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনক্রমে নিরাপদ খাতে বিনিয়োগ করা যাবে। পাশাপাশি নিয়মিত নিরীক্ষা, হিসাব সংরক্ষণ, বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এ ছাড়া নির্ধারিত বিধান লঙ্ঘন, তথ্য গোপন, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান বা ফান্ডের সম্পদের অপব্যবহারের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড) বিধিমালা, ২০২১ বাতিল করে নতুন আইন কার্যকরের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সিএমএসএফের অপারেশন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. ওয়াসি আজম বলেন, আইনটি কার্যকর হলে সিএমএসএফ একটি আধুনিক নগদ লভ্যাংশ বিতরণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে পারবে। এতে লভ্যাংশ বিতরণ হবে আরও ডিজিটাল, স্বচ্ছ ও কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত।

তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীরা একটি প্ল্যাটফর্ম থেকেই লভ্যাংশের ওপর উৎসে কাটা করের চালান ও কর কর্তন সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন, ফলে করসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সহজ হবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন আইন কার্যকর হলে সিএমএসএফের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে, অব্যবহৃত বিনিয়োগকারীর সম্পদের সুশাসন নিশ্চিত হবে এবং দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।