ঢাকা   বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে বোর্ড, চলতি মাসেই গঠনের সম্ভাবনা

জাতীয়

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২২:০৩, ৭ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে বোর্ড, চলতি মাসেই গঠনের সম্ভাবনা

শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম পাওয়ার পর চলতি মাসেই বোর্ড গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে জানিয়েছে শ্রম মন্ত্রণালয়।

গত সপ্তাহে সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার, তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার বলেন, তৈরি পোশাকশিল্পে মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথমে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের কাছে তাদের প্রতিনিধির নাম চাওয়া হবে। নাম পাওয়ার পরই মজুরি বোর্ড গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। চলতি মাসেই বোর্ড গঠন করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, সরকার সম্প্রতি শ্রম আইন সংশোধন করে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করেছে। তৈরি পোশাকশ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয় ২০২৩ সালের নভেম্বরে এবং তা কার্যকর হয় একই বছরের ডিসেম্বরে। ফলে আগামী নভেম্বরে ওই মজুরি কাঠামোর তিন বছর পূর্ণ হবে।

তবে নতুন আইন অনুযায়ী তিন বছরের সময় গণনা কখন থেকে শুরু হবে, তা নিয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। শ্রমিকনেতাদের দাবি, আইন অনুযায়ী চলতি বছরই নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে। অন্যদিকে মালিকপক্ষের বক্তব্য, শ্রম আইন সংশোধনের পর থেকেই তিন বছরের সময় গণনা করা উচিত।

এ বিষয়ে শ্রমসচিব বলেন, মালিক, শ্রমিক ও সরকারের শ্রমসংক্রান্ত কারিগরি কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেখানে সমাধান না হলে বিষয়টি জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) সভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানেও সিদ্ধান্ত না এলে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে ২০২৩ সালে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ তখন মজুরি বেড়েছিল ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। একই সঙ্গে আগের সাতটি গ্রেডের পরিবর্তে পাঁচটি গ্রেডে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়।

তবে এবার মজুরি বাড়ানোর ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি ও শিল্পের সক্ষমতা—দুই দিক বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলছে মালিকপক্ষ। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবি যৌক্তিক। কিন্তু একই সঙ্গে কারখানাগুলোর বাড়তি মজুরি দেওয়ার সক্ষমতাও বিবেচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান মজুরি কাঠামোতেই অনেক কারখানা টিকে থাকতে না পেরে বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন করে মজুরি বাড়ানো হলে পোশাকশিল্পের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

ফলে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের পর শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, শিল্পের সক্ষমতা এবং কারখানাগুলোর আর্থিক বাস্তবতা—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সর্বশেষ