ঢাকা   বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালিতে হামলা বাড়ায় ফের চড়ল তেলের দাম, ব্রেন্ট ১০২ ডলার

অর্থ ও বাণিজ্য

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১২:৪৬, ৮ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

হরমুজ প্রণালিতে হামলা বাড়ায় ফের চড়ল তেলের দাম, ব্রেন্ট ১০২ ডলার

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে হামলা বাড়ায় সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলার ছাড়িয়েছে।

অয়েল প্রাইস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ০৬ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ৩০ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৫১ ডলার। এতে প্রতি ব্যারেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৮৯ দশমিক ৭৯ ডলার।

এর আগে বুধবার আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) কৌশলগত মজুত থেকে দ্রুত তেল ছাড়ার কার্যক্রমে গতি আনার কথা জানায়। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম ও সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ডিজেল সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনাও করা হয়েছে। ওই ঘোষণার পর সাময়িকভাবে তেলের দাম কমেছিল।

তবে এক দিনের ব্যবধানেই বাজারে নতুন করে সরবরাহ-ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

হরমুজে হামলা বাড়ছে

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত অষ্টম মাসে প্রবেশ করার পর অক্টোবর মাসে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়েছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজে হামলা যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। উপসাগরীয় দেশগুলো তেল রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করলেও হামলার আশঙ্কায় জাহাজ চলাচলের ব্যয় এবং পণ্য ও নাবিকদের নিরাপত্তাঝুঁকি বেড়েছে।

সর্বশেষ হামলায় কাতারের উত্তরে একটি তেলবাহী জাহাজে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। বুধবার যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানায়, এ ঘটনায় কয়েকজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

আইইএর তেল ছাড়ার ঘোষণায় পুরোপুরি কাটেনি উদ্বেগ

এএনজেড ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ পণ্যবাজার কৌশলবিদ ড্যানিয়েল হাইনস বলেন, অতীতে এ ধরনের হামলার পর পারস্য উপসাগর থেকে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ার নজির রয়েছে। এবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পাঠানোর বিকল্প পথ সীমিত থাকায় উৎপাদক দেশগুলো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েই রপ্তানি চালিয়ে যেতে চাইছে।

আইইএর কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার সিদ্ধান্তও বাজারে প্রত্যাশিত স্বস্তি ফেরাতে পারেনি বলে মনে করছেন তিনি।

হাইনসের মতে, আইইএর নতুন পরিকল্পনায় যে তেল ছাড়ার কথা বলা হচ্ছে, তা মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত শুরুর সময় ঘোষিত ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার মূল পরিকল্পনারই অংশ হতে পারে। ফলে কৌশলগত মজুত থেকে এটি নতুন করে অতিরিক্ত তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নাও হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়লে সাময়িকভাবে বাজারে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হলেও এতে নতুন উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হয় না।

কমেছে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত

বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদক ও ভোক্তা যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের তথ্যও তেলের দাম বাড়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।

গত ২ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত ৩২ লাখ ব্যারেল কমে ৪২ কোটি ৪১ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকেরা মজুত ১৭ লাখ ব্যারেল কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

একই সময়ে ডিজেল ও জেট ফুয়েলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুত ৪২ হাজার ব্যারেল কমে ১০ কোটি ৫১ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। বছরের এই সময়ের গত পাঁচ বছরের গড় মজুতের তুলনায় এ পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

ফলে হরমুজ প্রণালিতে হামলার কারণে সরবরাহঝুঁকি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের কমে যাওয়া জ্বালানি মজুত—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে তেলের দাম।

সর্বশেষ