ঢাকা   বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

বিদেশি ঋণের অর্থ ব্যবহারে কড়াকড়ি, ত্রৈমাসিক রিপোর্ট দিতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংককে

অর্থ ও বাণিজ্য

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২০:৫০, ৭ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

বিদেশি ঋণের অর্থ ব্যবহারে কড়াকড়ি, ত্রৈমাসিক রিপোর্ট দিতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংককে

বিদেশি ঋণের অর্থ নির্ধারিত কাজে ব্যবহার নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে বিদেশি ঋণের বিপরীতে খোলা অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব বা এফসি অ্যাকাউন্টের অর্থ ব্যবহারের তথ্য ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে হবে। পাশাপাশি ঋণের অর্থ উত্তোলন ও ব্যবহার শেষ হলে সংশ্লিষ্ট হিসাব বন্ধ করে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অনুমোদিত ডিলার বা এডি ব্যাংকগুলোর কাছে বিজ্ঞপ্তিটি পাঠানো হয়েছে।

তিন মাস পরপর দিতে হবে ঋণের অর্থ ব্যবহারের হিসাব

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশি ঋণের বিপরীতে খোলা এফসি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তার প্রতিবেদন নির্দিষ্ট ‘ফর্ম এলইউ’-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগে জমা দিতে হবে।

এ প্রতিবেদন দিতে হবে প্রতি তিন মাস পরপর। অর্থাৎ ডিসেম্বর, মার্চ, জুন ও সেপ্টেম্বর—প্রতিটি প্রান্তিক শেষে বিদেশি ঋণের অর্থ ব্যবহারের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে দাখিল করতে হবে।

এর মাধ্যমে বিদেশি ঋণের অর্থ অনুমোদিত উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ঋণের অর্থ শেষ হলে এফসি অ্যাকাউন্ট বন্ধ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনায় এফসি অ্যাকাউন্ট পরিচালনার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিদেশি ঋণের অর্থ উত্তোলন ও ব্যবহার সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এডি ব্যাংককে এফসি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে হিসাব বন্ধ করার বিষয়টি বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগকে জানাতে হবে।

তবে ঋণ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য অর্থ সংরক্ষণ করার প্রয়োজন হলে ব্যতিক্রম রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ঋণের পুরো অর্থ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত এফসি অ্যাকাউন্ট সচল রাখা যাবে।

পরবর্তী তিন কিস্তির বেশি অর্থ রাখা যাবে না

ঋণ পরিশোধের জন্য এফসি অ্যাকাউন্টে অর্থ রাখার ক্ষেত্রেও সীমা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নির্দেশনা অনুযায়ী, আমদানি ছাড়া রপ্তানি আয় এবং বৈধ উৎস থেকে টাকায় রূপান্তরিত অর্থ এফসি অ্যাকাউন্টে জমা করা যাবে। তবে ওই হিসাবে পরবর্তী তিনটি কিস্তি পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের বেশি রাখা যাবে না।

অর্থাৎ বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধের নামে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা ওই হিসাবে জমা করে রাখার সুযোগ থাকবে না।

অনুমোদিত কাজেই ব্যবহার করতে হবে বিদেশি ঋণ

বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বিদেশি ঋণের অর্থ যে উদ্দেশ্যে অনুমোদন করা হয়েছে, শুধু সেই উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করতে হবে।

একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধান এবং সংশ্লিষ্ট ঋণ চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে পরিপালন করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট এডি ব্যাংকগুলোর।

এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে শুধু হিসাব পরিচালনা করলেই হবে না; ঋণের অর্থের ব্যবহার এবং চুক্তির শর্ত পরিপালনের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

যাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের আইবিএ এবং এসসিএনসিএল কর্তৃক যোগ্য ঋণগ্রহীতাদের অনুমোদিত বিদেশি ঋণের বিপরীতে খোলা ও পরিচালিত এফসি অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনাগুলো প্রযোজ্য হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতা এবং এডি ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোকে অবিলম্বে নতুন নির্দেশনা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে।

ফলে বিদেশি ঋণের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে এখন থেকে নিয়মিত প্রতিবেদন, নির্ধারিত হিসাব ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ চুক্তির শর্ত পরিপালনের ওপর ব্যাংক ও ঋণগ্রহীতাদের আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

সর্বশেষ