ঢাকা   বুধবার ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

ফের ৩৭ বিলিয়ন ডলারে রিজার্ভ

ফের ৩৭ বিলিয়ন ডলারে রিজার্ভ

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়িয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতার ফলে রিজার্ভে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১২ আগস্ট) দিন শেষে দেশের মোট বা গ্রোস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ৩২ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার।

চলতি মাসের শুরুতে ২ আগস্ট গ্রোস রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ হিসাবে ছিল ৩১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ চলতি মাসে উভয় হিসাবেই রিজার্ভ বেড়েছে।

তবে গ্রোস রিজার্ভের পুরোটা ব্যবহারযোগ্য নয়। স্বল্পমেয়াদি দায় ও বিভিন্ন বাধ্যবাধকতা বাদ দেওয়ার পর যে রিজার্ভ থাকে, সেটিই অর্থনীতির জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ হিসাবে বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

দেশের মাসিক গড় আমদানি ব্যয় প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার ধরলে, বর্তমান ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দিয়ে সাড়ে পাঁচ মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। সাধারণভাবে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ রিজার্ভকে নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তবে কয়েক বছর আগেও রিজার্ভ পরিস্থিতি ছিল অনেক চাপের মধ্যে। ২০২১ সালের আগস্টে দেশের রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ঋণ অনিয়ম, অর্থপাচার ও রেমিট্যান্স প্রবাহে ধীরগতিসহ নানা কারণে রিজার্ভ কমতে থাকে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় গ্রোস রিজার্ভ নেমে আসে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে। আইএমএফের বিপিএম-৬ হিসাবে তখন রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে ডলারের দাম ১২০ টাকার ওপরে উঠে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।

পরবর্তীতে ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার পাশাপাশি রেমিট্যান্স বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। আমদানির ওপর থাকা কিছু বিধিনিষেধও ধীরে ধীরে শিথিল করা হয়। এর ফলে প্রবাসী আয় বাড়তে থাকায় রিজার্ভ পুনর্গঠনে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের রিজার্ভ ছিল প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার। বিপিএম-৬ হিসাবেও তা ছিল প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার। সেখান থেকে এখন রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছেছে।