ঢাকা   মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

পাঁচ ব্যাংকের পুরোনো মালিকদের ফেরার পথ বন্ধ, ১৮(ক) ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত

পাঁচ ব্যাংকের পুরোনো মালিকদের ফেরার পথ বন্ধ, ১৮(ক) ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত

একীভূত হওয়া পাঁচটি দুর্বল ব্যাংকের পুরোনো মালিকদের পুনরায় মালিকানায় ফেরার সুযোগ বন্ধ করতে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এ সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বাতিল করা হচ্ছে।

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সংশোধনীটির খসড়ায় অনুমোদন দেওয়া হয়। লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে সংশোধনীটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র জানায়, একীভূত পাঁচটি দুর্বল ব্যাংকের মালিকানা আগের মালিকদের হাতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনা দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৮(ক) ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের আওতায় পাঁচটি দুর্বল ব্যাংক একীভূত করা হয়। একই সঙ্গে এসব ব্যাংককে দুর্বল করার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ভবিষ্যতে আবার মালিকানায় ফেরার সুযোগ না দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছিল।

তবে পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদে ব্যাংক রেজল্যুশন বিল পাসের সময় ১৮(ক) ধারা যুক্ত করা হয়। ওই ধারার মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সাবেক মালিকদের পুনরায় মালিকানায় ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এ বিধান নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক।

সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য ১৮(ক) ধারা বাতিলের পৃথক ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর ১৮(ক) ধারায় নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন না করায় ধারাটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক খাতের সংকট মোকাবিলা, দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠন এবং আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যেই ব্যাংক রেজল্যুশন কাঠামো চালু করা হয়েছে। সংশোধিত আইনের মাধ্যমে এ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে একই বৈঠকে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘ভিসা নীতি-২০২৬’-এরও অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।