ঢাকা   বুধবার ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

ব্যাংক পর্ষদের দুই বছরের সীমা তুলে নিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ব্যাংক পর্ষদের দুই বছরের সীমা তুলে নিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক সংস্কার ও পুনর্গঠনে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিলের পর নতুন পর্ষদ বা প্রশাসককে সর্বোচ্চ দুই বছর দায়িত্বে রাখার আইনি সীমা তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রয়োজন হলে সংস্কার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের মেয়াদ বাড়াতে পারবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সোমবার (১০ আগস্ট) ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে এ বিষয়ে জরুরি প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে পরিচালনা পর্ষদ বাতিলের পর নতুন পর্ষদ বা প্রশাসকের দায়িত্ব পালনের মেয়াদসংক্রান্ত বিধানে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংক-কোম্পানির ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদ বাতিলের আদেশের মেয়াদসংক্রান্ত আইনের ৪৭(২) ধারার বিধান সাধারণভাবে প্রযোজ্য হবে না।

আগের নিয়মে, কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিলের পর বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজন অনুযায়ী মেয়াদ বাড়াতে পারত। তবে সব মিলিয়ে সেই মেয়াদ দুই বছরের বেশি করার সুযোগ ছিল না। নতুন সিদ্ধান্তে ব্যাংক-কোম্পানির ক্ষেত্রে এই সর্বোচ্চ দুই বছরের সীমা আর থাকছে না।

ফলে কোনো ব্যাংকের পর্ষদ বাতিলের পর বাংলাদেশ ব্যাংক যে নতুন পর্ষদ নিয়োগ করবে, প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের দায়িত্বের মেয়াদও বাড়াতে পারবে। একইভাবে প্রশাসক নিয়োগ করা হলে তার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও দুই বছরের বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ১৪টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে নতুন পর্ষদ গঠন করেছে। এসব ব্যাংকের নতুন পর্ষদের দুই বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসায় পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে চাপ তৈরি হয়েছিল।

এ অবস্থায় আইনগত সীমা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। এর ফলে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পুনর্গঠন শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন পর্ষদ বা প্রশাসককে দায়িত্বে রাখার সুযোগ তৈরি হলো।