ঢাকা   শুক্রবার ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

১০ কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের নজর, সর্বোচ্চ ৬০% ডিভিডেন্ড

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:৫০, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

১০ কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের নজর, সর্বোচ্চ ৬০% ডিভিডেন্ড

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ডিভিডেন্ড ঘোষণা ও তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে বেক্সিমকো ফার্মা ৬০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে আলোচনায় এসেছে। অন্যদিকে, বাটা সু ঘোষণা করেছে ৩৬ দশমিক ৩১ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন ক্যাশ ডিভিডেন্ড। তবে সব কোম্পানির চিত্র এক নয়। কোনো কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে, কোনো কোম্পানির কমেছে, আবার কোনো কোনো কোম্পানির লোকসানও বেড়েছে।

ডিভিডেন্ড ঘোষণার ক্ষেত্রে বেক্সিমকো ফার্মার পাশাপাশি ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স ও আফতাব অটোমোবাইলসের ঘোষণাও রয়েছে আলোচনায়। ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৪ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৬ পয়সা। কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ১৩ টাকা ৫ পয়সা। ঘোষিত ডিভিডেন্ড অনুমোদনে আগামী ২৪ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ নভেম্বর।

অন্যদিকে, আফতাব অটোমোবাইলস ১ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। যদিও কোম্পানিটি এখনও লোকসানে রয়েছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৫৬ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৩৭ পয়সা। কোম্পানিটির এনএভিপিএস ৪৫ টাকা ৩১ পয়সা। আগামী ২৯ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় কোম্পানিটির এজিএম অনুষ্ঠিত হবে। রেকর্ড ডেট ১৯ নভেম্বর।

তবে ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেনি আনলিমা ইয়ার্ন। কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩ টাকা ৩ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ২ টাকা ৯৯ পয়সা। অর্থাৎ লোকসানের পরিমাণ আরও বেড়েছে। কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৬০ পয়সা। আগামী ২০ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১১টায় এজিএম অনুষ্ঠিত হবে। রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ নভেম্বর।

এদিকে, তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে ১০ কোম্পানির মধ্যে মুনাফা বৃদ্ধির পাশাপাশি পতনের চিত্রও উঠে এসেছে। এর মধ্যে রেকিট বেনকিজারের মুনাফায় ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৫৬ টাকা ৮৬ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫২ টাকা ৭২ পয়সা। নয় মাসে ইপিএস বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২১ টাকা ২২ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ১১৪ টাকা ৩৮ পয়সা। কোম্পানিটির এনএভিপিএস ১৩৫ টাকা ৯৬ পয়সা।

আর্থিক অবস্থার উন্নতির চিত্র দেখা গেছে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের ক্ষেত্রেও। তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩৪ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ২৬ পয়সা। নয় মাসে ইপিএস বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ পয়সা, আগের বছর ছিল ৬১ পয়সা। কোম্পানিটির এনএভিপিএস ১৭ টাকা ৩৭ পয়সা।

ব্যাংক খাতের যমুনা ব্যাংকও মুনাফা বৃদ্ধির ধারায় রয়েছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৩১ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ১৩ পয়সা। নয় মাসে ইপিএস বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ৩৪ পয়সা, আগের বছর ছিল ৪ টাকা ৪৪ পয়সা। ব্যাংকটির এনএভিপিএস ২৯ টাকা ৯৪ পয়সা।

বীমা খাতের রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক ফলাফলও ইতিবাচক। তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৪১ পয়সা, আগের বছর ছিল ২ টাকা। নয় মাসে ইপিএস বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ৯৩ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৭ টাকা ৯৬ পয়সা। কোম্পানিটির এনএভিপিএস ৮৭ টাকা ৩৯ পয়সা।

নর্দার্ন ইন্স্যুরেন্সের তৃতীয় প্রান্তিকেও ইপিএস বেড়েছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৪৭ পয়সা, আগের বছর ছিল ৪৩ পয়সা। তবে নয় মাসের হিসাবে ইপিএস সামান্য কমে ১ টাকা ৩২ পয়সা হয়েছে, আগের বছর যা ছিল ১ টাকা ৩৬ পয়সা। কোম্পানিটির এনএভিপিএস ২৫ টাকা ১২ পয়সা।

অন্যদিকে, ইউনিলিভার কনজ্যুমারের মুনাফায় উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৮ টাকা ৫২ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১২ টাকা ৮০ পয়সা। নয় মাসে ইপিএস কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা ৮৫ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ৩২ টাকা ৫৯ পয়সা। কোম্পানিটির এনএভিপিএস ৯৩ টাকা ১৫ পয়সা।

এবি ব্যাংকের লোকসান আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কমলেও এখনও তা উল্লেখযোগ্য। তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৯ টাকা ৮৩ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ১৪ টাকা ৯৮ পয়সা। নয় মাসে লোকসান কমে দাঁড়িয়েছে ৩১ টাকা ৪৬ পয়সা, আগের বছর ছিল ৩৪ টাকা ৬১ পয়সা। ব্যাংকটির এনএভিপিএস ৬৭ টাকা ৭৮ পয়সা।

প্রিমিয়ার ব্যাংকের ক্ষেত্রেও মুনাফায় বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৩৭ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪ টাকা ৩৯ পয়সা। নয় মাসে ইপিএস কমে দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ৫২ পয়সা, আগের বছর ছিল ৫ টাকা ৪৯ পয়সা। ব্যাংকটির এনএভিপিএস ৯ টাকা ৭ পয়সা।

এদিকে, হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালসের লোকসান আরও বেড়েছে। চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩ টাকা ৬১ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ১৬ পয়সা। নয় মাসে লোকসান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ৫৮ পয়সা, আগের বছর ছিল ৪ টাকা ১১ পয়সা। কোম্পানিটির এনএভিপিএস ৬৭ টাকা ৩৪ পয়সা।

সব মিলিয়ে ডিভিডেন্ড ঘোষণায় কয়েকটি কোম্পানির উল্লেখযোগ্য লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের নজর কাড়লেও আর্থিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কোম্পানিভেদে ভিন্ন চিত্র। কোথাও মুনাফা বৃদ্ধির ধারা রয়েছে, কোথাও কমেছে আয়, আবার কয়েকটি কোম্পানির লোকসানও বেড়েছে। ফলে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু ডিভিডেন্ডের হার নয়, কোম্পানির আয়, মুনাফার ধারাবাহিকতা ও আর্থিক অবস্থাও বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বশেষ