ঢাকা   বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

৩২ কোম্পানির ডিভিডেন্ড ঘোষণা, কে কত দিচ্ছে

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:১০, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

৩২ কোম্পানির ডিভিডেন্ড ঘোষণা, কে কত দিচ্ছে

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩২টি কোম্পানি সর্বশেষ অর্থবছরের আর্থিক ফলাফলের ভিত্তিতে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। অন্যদিকে, কয়েকটি কোম্পানি লোকসানে থাকার পরও নামমাত্র নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আবার আর্থিক ফলাফল ও ব্যবসায়িক পরিস্থিতির কারণে আটটি কোম্পানি কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ঘোষিত লভ্যাংশের হার ও শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস বিশ্লেষণে দেখা যায়, কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ইউনাইটেড পাওয়ারের শেয়ারপ্রতি আয় ১৫ টাকা ৯৪ পয়সা এবং প্রতিষ্ঠানটি ৬০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে এমজেএল বাংলাদেশ, যার শেয়ারপ্রতি আয় ১১ টাকা ৪ পয়সা। এ ছাড়া তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল ১৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে; কোম্পানিটির ইপিএস ৪ টাকা ২৯ পয়সা।

অন্যদিকে, আমান ফিড, সামিট পাওয়ার, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, এডিএন টেলিকম, বিডিকম অনলাইন, আরগন ডেনিমস, আমান কটন ও প্রিমিয়ার সিমেন্ট—এই আটটি কোম্পানি ১০ থেকে সাড়ে ১০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ইপিএসের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে শুধু লভ্যাংশের হার নয়, কোম্পানির আয়, মুনাফার ধারাবাহিকতা এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্ভাবনাও বিনিয়োগকারীদের বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

তালিকায় থাকা আরও কয়েকটি কোম্পানি তুলনামূলক কম হারে নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। শাশা ডেনিমস ও সোনারগাঁও টেক্সটাইল ৫ শতাংশ করে, ন্যাশনাল পলিমার ও ইফাদ অটোস ৩ শতাংশ করে এবং ইভিন্স টেক্সটাইল ও জেএমআই হসপিটাল ২ দশমিক ৫০ শতাংশ করে নগদ লভ্যাংশ দেবে। এ ছাড়া বিডি অটোকারস ২ শতাংশ, আলহাজ্ব টেক্সটাইল ও গোল্ডেন হার্ভেস্ট ১ শতাংশ করে এবং বিবিএস কেবলস ও ড্রাগণ সোয়েটার যথাক্রমে ০.২৫ ও ০.২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ওরিজা অ্যাগ্রোও ০.২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, লোকসানে থাকা কয়েকটি কোম্পানিও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য নামমাত্র লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলহাজ্ব টেক্সটাইলের শেয়ারপ্রতি লোকসান ২ টাকা ৮৫ পয়সা, গোল্ডেন হার্ভেস্টের ৫৭ পয়সা, বিবিএস কেবলসের ৫ টাকা ৮ পয়সা এবং ড্রাগণ সোয়েটারের ৪৫ পয়সা। এসব কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণার পাশাপাশি লোকসানের পরিমাণও বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

অন্যদিকে, আজিজ পাইপস, জিলবাংলা সুগার, শ্যামপুর সুগার, জিএসপি ফাইন্যান্স, উসমানিয়া গ্লাস, বিবিএস, ইনফরমেশন সার্ভিসেস, জাহিন স্পিনিং ও পেনিনসুলা চিটাগাং—কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি বলে দেওয়া তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জিলবাংলা সুগারের শেয়ারপ্রতি লোকসান সর্বোচ্চ ৭২ টাকা ৩২ পয়সা; শ্যামপুর সুগারের লোকসান ৪২ টাকা ৯৪ পয়সা। এ ছাড়া জিএসপি ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি লোকসান ৮ টাকা ৮৯ পয়সা এবং উসমানিয়া গ্লাসের ৪ টাকা ৭৯ পয়সা।

সব মিলিয়ে, ৩২টি কোম্পানির ঘোষিত লভ্যাংশে যেমন উচ্চ মুনাফা করা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে, তেমনি লোকসান ও লভ্যাংশ না দেওয়ার চিত্রও সামনে এসেছে। তবে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শুধু ঘোষিত ডিভিডেন্ডের হার দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে কোম্পানির ইপিএস, আর্থিক অবস্থান, নগদ প্রবাহ এবং লভ্যাংশের ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করা জরুরি।

একনজরে: দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, ৩২টি কোম্পানির মধ্যে ২৩টি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে এবং ৯টি কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। ঘোষিত লভ্যাংশের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ইউনাইটেড পাওয়ার।