ঢাকা   শুক্রবার ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

এক নজরে ৫৯ কোম্পানির ডিভিডেন্ড ঘোষণা: সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ, লভ্যাংশ দিচ্ছে না ২০ কোম্পানি

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:২৫, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

এক নজরে ৫৯ কোম্পানির ডিভিডেন্ড ঘোষণা: সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ, লভ্যাংশ দিচ্ছে না ২০ কোম্পানি

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৫৯টি কোম্পানির ঘোষিত ডিভিডেন্ড, শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ও রেকর্ড ডেট নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে ইউনাইটেড পাওয়ার ও বেক্সিমকো ফার্মা। এ ছাড়া এমজেএল বাংলাদেশ ৫০ শতাংশ, এসিআই ফর্মুলেশনস ২০ শতাংশ, এসিআই পিএলসি ১৫ শতাংশ ক্যাশ ও ৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড এবং নাভানা ফার্মা ১৪ শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে ৬ শতাংশ ক্যাশ ও ৮ শতাংশ বোনাস শেয়ার।

অন্যদিকে, কয়েকটি কোম্পানি নামমাত্র ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। আবার কিছু কোম্পানি লোকসানে থাকার পরও লভ্যাংশ দিয়েছে। এর বিপরীতে বেশ কয়েকটি কোম্পানি ডিভিডেন্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঘোষিত লভ্যাংশের পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর ইপিএস ও রেকর্ড ডেট বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা ইউনাইটেড পাওয়ারের শেয়ারপ্রতি আয় ১৫ টাকা ৯৪ পয়সা। বেক্সিমকো ফার্মার ইপিএস ২০ টাকা ১৭ পয়সা। তবে কোম্পানিটির ডিভিডেন্ড বিতরণ হাইকোর্টের নির্দেশনার পর কার্যকর হবে। এমজেএল বাংলাদেশের ইপিএস ১১ টাকা ৪ পয়সা এবং তমিজউদ্দিন টেক্সটাইলের ইপিএস ৪ টাকা ২৯ পয়সা। এ ছাড়া সামিট পাওয়ার ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং ১০ শতাংশ, এডিএন টেলিকম ১০ শতাংশ, বিডিকম অনলাইন ১০ শতাংশ, আরগন ডেনিমস ১০ শতাংশ, আমান কটন ১০ শতাংশ এবং প্রিমিয়ার সিমেন্ট ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে।

তুলনামূলক কম হারে ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে শাশা ডেনিমস ও সোনারগাঁও টেক্সটাইল, যারা ৫ শতাংশ করে ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেবে। ন্যাশনাল পলিমার ও ইফাদ অটোস ঘোষণা করেছে ৩ শতাংশ করে ক্যাশ ডিভিডেন্ড। ইভিন্স টেক্সটাইল ও জেএমআই হসপিটাল দেবে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ করে। বিডি অটোকারস ২ শতাংশ, আলহাজ্ব টেক্সটাইল ও গোল্ডেন হার্ভেস্ট ১ শতাংশ করে এবং বিবিএস কেবলস ও ওরিজা অ্যাগ্রো ০ দশমিক ২৫ শতাংশ করে ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। ড্রাগন সোয়েটার ও সিলভা ফার্মা ঘোষণা করেছে ০ দশমিক ২০ শতাংশ ও ০ দশমিক ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড। এ ছাড়া ফার কেমিক্যাল ও ভিএফএস থ্রেড ডাইংও ০ দশমিক ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। কিছু কোম্পানির ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা-পরিচালকেরা লভ্যাংশ পাবেন না।

এদিকে, নাভানা ফার্মা ১৪ শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে ৬ শতাংশ ক্যাশ ও ৮ শতাংশ বোনাস শেয়ার রয়েছে। ইনডেক্স এগ্রো ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড, ইউনিক হোটেল ১২ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড এবং সিনোবাংলা ১১ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। সায়হাম কটন মিলস ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, সায়হাম টেক্সটাইল ৫ শতাংশ, কুইন সাউথ টেক্সটাইল ২ শতাংশ, এসকয়ার নিট কম্পোজিট ২ শতাংশ, অ্যালটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ১ শতাংশ এবং আরডি ফুড ১ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। এসকয়ার নিট কম্পোজিটের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা-পরিচালকেরা ডিভিডেন্ড পাবেন না।

অন্যদিকে, বেশ কয়েকটি কোম্পানি ডিভিডেন্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে রয়েছে আজিজ পাইপস, জিল বাংলা সুগার, শ্যামপুর সুগার, জিএসপি ফাইন্যান্স, উসমানিয়া গ্লাস, বিবিএস, ইনফরমেশন সার্ভিসেস, জাহিন স্পিনিং, পেনিনসুলা চিটাগাং, সাফকো স্পিনিং, অ্যাপেক্স উইভিং, দেশবন্ধু পলিমার, বসুন্ধরা পেপার মিলস, মেঘনা সিমেন্ট, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, মুন্নো এগ্রো ও জুট স্পিনার্স। তবে এসব কোম্পানির মধ্যে কয়েকটির শেয়ারপ্রতি আয় ইতিবাচক থাকলেও ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হয়নি। যেমন, দেশবন্ধু পলিমারের ইপিএস ৩ টাকা ১৫ পয়সা এবং মুন্নো এগ্রোর ইপিএস ৪ পয়সা।

লোকসানে থাকা কয়েকটি কোম্পানিও ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। আলহাজ্ব টেক্সটাইলের ইপিএস ঋণাত্মক ২ টাকা ৮৫ পয়সা, গোল্ডেন হার্ভেস্টের ঋণাত্মক ৫৭ পয়সা, বিবিএস কেবলসের ঋণাত্মক ৫ টাকা ৮ পয়সা এবং এসকয়ার নিট কম্পোজিটের ঋণাত্মক ২ টাকা ৬৮ পয়সা। অন্যদিকে, জিল বাংলা সুগারের ইপিএস ঋণাত্মক ৭২ টাকা ৩২ পয়সা, মেঘনা সিমেন্টের ঋণাত্মক ৬৩ টাকা ৬৮ পয়সা এবং বসুন্ধরা পেপার মিলসের ঋণাত্মক ৪২ টাকা ৭৪ পয়সা। এসব তথ্য থেকে বোঝা যায়, কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থার পাশাপাশি ডিভিডেন্ড ঘোষণার ধরনেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।

রেকর্ড ডেটের ক্ষেত্রে আমান ফিডের ৩ ডিসেম্বর, ড্রাগন সোয়েটারের ১৬ নভেম্বর, শ্যামপুর সুগারের ১৮ নভেম্বর এবং নাভানা ফার্মার ২৪ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ইনডেক্স এগ্রো, সায়হাম কটন মিলস ও হিমাদ্রির রেকর্ড ডেট ১৮ নভেম্বর। সায়হাম টেক্সটাইলের ১৯ নভেম্বর, কুইন সাউথ টেক্সটাইলের ২৫ নভেম্বর, এসকয়ার নিট কম্পোজিটের ২ ডিসেম্বর, সিলভা ফার্মার ১ ডিসেম্বর, ইউনিক হোটেলের ১৯ নভেম্বর এবং সিনোবাংলার ২ ডিসেম্বর। আরডি ফুডের রেকর্ড ডেট ৯ ডিসেম্বর। অন্যান্য কয়েকটি কোম্পানির রেকর্ড ডেট এখনো উল্লেখ করা হয়নি অথবা বিশেষ শর্তের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ৫৯টি কোম্পানির ডিভিডেন্ড ঘোষণায় যেমন উচ্চহারের ক্যাশ ডিভিডেন্ড রয়েছে, তেমনি নামমাত্র লভ্যাংশ ও ডিভিডেন্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্তও রয়েছে। তাই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শুধু ডিভিডেন্ডের হার নয়, কোম্পানির ইপিএস, আর্থিক অবস্থা, রেকর্ড ডেট এবং প্রযোজ্য বিশেষ শর্তগুলোও যাচাই করা প্রয়োজন।