ঢাকা   বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশ ব্যাংকের ছাড়ের পরই ইউসিবির ১১ কোটি ২০ লাখ শেয়ার কিনতে চায় চেয়ারম্যান-সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠান, সুশাসন নিয়ে প্রশ্ন

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:০৬, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের ছাড়ের পরই ইউসিবির ১১ কোটি ২০ লাখ শেয়ার কিনতে চায় চেয়ারম্যান-সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠান, সুশাসন নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ ছাড়ের পরপরই ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসির ১১ কোটি ২০ লাখ শেয়ার কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান শরীফ জহিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি প্রতিষ্ঠান। শেয়ারধারণের সর্বোচ্চ সীমা শিথিল করার সিদ্ধান্তের পর এমন ঘোষণা ব্যাংকটির মালিকানা, স্বার্থের সংঘাত এবং করপোরেট সুশাসন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

প্রতিষ্ঠান দুটি হলো জেড অ্যান্ড জেড ইনটিমেটস লিমিটেড এবং অনন্তা ডেনিম টেকনোলজি লিমিটেড। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে দেওয়া ঘোষণায় জেড অ্যান্ড জেড ইনটিমেটস ৩ কোটি এবং অনন্তা ডেনিম টেকনোলজি ৮ কোটি ২০ লাখ ইউসিবি শেয়ার কেনার আগ্রহ জানিয়েছে। তবে এগুলো শেয়ার কেনার আগ্রহের ঘোষণা; লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার প্রমাণ নয়।

এর আগে ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংক ইউসিবিকে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১৪ক(১) ধারার বিধান থেকে বিশেষ ছাড় দেয়। এর ফলে একজন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি বা পরিবার সাধারণভাবে যে ১০ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ার ধারণের সীমার আওতায় ছিল, ইউসিবির ক্ষেত্রে একজন বিনিয়োগকারী বা পরিবারকে পরিশোধিত মূলধনের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ার ধারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংকটির মূলধন শক্তিশালী করাই এ সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য। তবে ছাড় দেওয়ার বিজ্ঞপ্তিতে কোনো নির্দিষ্ট সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীর নাম উল্লেখ করা হয়নি।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শরীফ জহির প্রতিষ্ঠান দুটিরই ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি ইউসিবির চেয়ারম্যানও। ফলে একই ব্যাংকের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের শেয়ার কেনার আগ্রহের বিষয়টি স্বচ্ছতা ও সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এড়ানোর প্রশ্ন সামনে এনেছে।

তবে এ ঘটনায় আইন লঙ্ঘন বা অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার প্রমাণ এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ছাড়ের সঙ্গে প্রতিষ্ঠান দুটির শেয়ার কেনার আগ্রহের সরাসরি যোগসূত্র আছে কি না, তা-ও নিশ্চিত নয়। বিষয়টি স্পষ্ট করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ছাড়ের পূর্ণাঙ্গ প্রজ্ঞাপন, প্রতিষ্ঠান দুটির প্রকৃত শেয়ারমালিকানার তথ্য এবং ইউসিবির সংশ্লিষ্ট পক্ষের লেনদেন ও স্বার্থের সংঘাতসংক্রান্ত নীতিমালা পর্যালোচনা প্রয়োজন।

বাজারসংশ্লিষ্টদের কাছে তাই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—ব্যাংকটির মূলধন বাড়ানোর জন্য দেওয়া বিশেষ ছাড়ের সুবিধা কীভাবে ব্যবহার করা হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে কীভাবে।