ঢাকা   বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

বিক্রয়মূল্য কমা ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কমেছে মালেক স্পিনিংয়ের মুনাফা

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:১৮, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

বিক্রয়মূল্য কমা ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কমেছে মালেক স্পিনিংয়ের মুনাফা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি মালেক স্পিনিং মিলস পিএলসির মুনাফায় চাপ তৈরি হয়েছে। উৎপাদিত পণ্যের বিক্রয়মূল্য কমে যাওয়া এবং বিক্রীত পণ্যের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে। এতে প্রথম প্রান্তিকে আয় বাড়লেও নয় মাসের হিসাবে আগের বছরের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে কোম্পানিটি।

২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির সম্মিলিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ৪ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৫ টাকা ৭৮ পয়সা। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে ১ টাকা ৭৪ পয়সা।

তবে মুনাফা কমলেও কোম্পানিটির পরিচালন নগদ প্রবাহ ও শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে। পাশাপাশি সহযোগী প্রতিষ্ঠান জে এম ফেব্রিকস লিমিটেড থেকে প্রায় ২৪ কোটি টাকা অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ পাওয়ার অধিকার রয়েছে মালেক স্পিনিংয়ের। অন্যদিকে, সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠান নিউএশিয়া সিনথেটিকস লিমিটেডের মূলধন বাড়াতে নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ২৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য আগামী ২৬ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টায় পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় পূর্ণ বছরের আর্থিক ফলাফল এবং লভ্যাংশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

প্রথম প্রান্তিকে আয় বেড়েছিল

কোম্পানির অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে মালেক স্পিনিংয়ের সম্মিলিত শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৮৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ১ টাকা ৭৩ পয়সা। অর্থাৎ, আয় বেড়েছে ১৬ পয়সা।

কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় নিট মুনাফা বাড়ায় শেয়ারপ্রতি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রথম প্রান্তিকে পরিচালন নগদ প্রবাহেও উন্নতি হয়েছে। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ৫২ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল মাত্র ১৮ পয়সা। বিক্রির বিপরীতে অর্থ আদায় বৃদ্ধি, অন্যান্য আয় বাড়া এবং অর্থ পরিশোধ কমে যাওয়াকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে কোম্পানি।

২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ৬২ টাকা ৫২ পয়সা। ৩০ জুন শেষে তা ছিল ৬০ টাকা ৬৩ পয়সা। সংরক্ষিত আয় বৃদ্ধির কারণে সম্পদমূল্য বেড়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে আয় কমেছে ৯৭ পয়সা

২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির সম্মিলিত শেয়ারপ্রতি আয় কমে ১ টাকা ৬৫ পয়সায় নেমে আসে। আগের বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ২ টাকা ৬২ পয়সা। ফলে আয় কমেছে ৯৭ পয়সা।

কোম্পানির দেওয়া ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বিক্রীত পণ্যের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে। অর্থাৎ, পণ্য বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় মুনাফার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

তবে ছয় মাসের হিসাবে পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ ছিল ৬ টাকা ৩৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৪ টাকা ৮৫ পয়সা।

কোম্পানির মতে, বিক্রির বিপরীতে অর্থ আদায় ও অন্যান্য আয় বৃদ্ধি এবং কাঁচামাল কেনা ও অন্যান্য খাতে অর্থ পরিশোধ কমে যাওয়ায় নগদ প্রবাহ বেড়েছে।

২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ৬৩ টাকা ৬৪ পয়সা। জুন শেষে এই মূল্য ছিল ৬০ টাকা ৬৩ পয়সা। সংরক্ষিত আয় বৃদ্ধির কারণে সম্পদমূল্য বেড়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানি।

তৃতীয় প্রান্তিকে আয় নেমেছে ৫০ পয়সায়

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকে মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ারপ্রতি আয় আরও কমে ৫০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ১ টাকা ৪৩ পয়সা। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে আয় কমেছে ৯৩ পয়সা।

কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ সময়ে বিক্রীত পণ্যের ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে পণ্যের বিক্রয়মূল্য কমেছে। ফলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান কমে গিয়ে মুনাফায় চাপ তৈরি হয়েছে।

প্রথম প্রান্তিকে আয় বাড়লেও পরের দুই প্রান্তিকে তা ধারাবাহিকভাবে কমেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যয় বৃদ্ধি এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে বিক্রয়মূল্য কমে যাওয়ায় নয় মাসের ফলাফলেও এর প্রভাব পড়েছে।

নয় মাসে আয় কমেছে ১ টাকা ৭৪ পয়সা

২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির সম্মিলিত শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৪ টাকা ৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৫ টাকা ৭৮ পয়সা।

অর্থাৎ, নয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে ১ টাকা ৭৪ পয়সা। প্রথম প্রান্তিকে ১৬ পয়সা আয় বাড়লেও পরের দুই প্রান্তিকে পতনের কারণে সেই অগ্রগতি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।

তবে নয় মাসের এই ফলাফল দিয়ে পুরো অর্থবছরের চূড়ান্ত আর্থিক অবস্থা নির্ধারণ করা যাবে না। চতুর্থ প্রান্তিকের ফলাফল এবং পূর্ণ বছরের নিরীক্ষিত হিসাব প্রকাশের পর কোম্পানিটির আয় ও মুনাফার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

আয় কমলেও নগদ প্রবাহ বেড়েছে

মুনাফার সূচকে পতন থাকলেও পরিচালন নগদ প্রবাহে বড় উন্নতি হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ৯৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ২ টাকা ৭৯ পয়সা। অর্থাৎ, বেড়েছে ৬ টাকা ১৭ পয়সা।

কোম্পানির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সরবরাহকারী ও অন্যান্য খাতে অর্থ পরিশোধ কমে যাওয়ায় পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়েছে।

তবে পরিচালন নগদ প্রবাহ এবং শেয়ারপ্রতি আয় এক বিষয় নয়। নগদ প্রবাহ ব্যবসার কার্যক্রম থেকে অর্থ আসা-যাওয়ার চিত্র তুলে ধরে। অন্যদিকে, শেয়ারপ্রতি আয় হিসাবকালীন মুনাফার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই নগদ প্রবাহ বাড়লেও মুনাফা বা লভ্যাংশ একই হারে বাড়বে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য বেড়েছে ৩ টাকা ৫২ পয়সা

২০২৬ সালের ৩১ মার্চ শেষে মালেক স্পিনিংয়ের সম্মিলিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৬৪ টাকা ১৫ পয়সা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষে এই মূল্য ছিল ৬০ টাকা ৬৩ পয়সা। অর্থাৎ, এ সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে ৩ টাকা ৫২ পয়সা।

কোম্পানির মতে, সংরক্ষিত আয় বৃদ্ধির কারণে সম্পদমূল্য বেড়েছে। এটি কোম্পানির আর্থিক অবস্থার ইতিবাচক দিক। তবে সম্পদমূল্য বৃদ্ধি পেলেই লভ্যাংশ বাড়ানোর সক্ষমতা তৈরি হয় না। এ ক্ষেত্রে মুনাফা, নগদ অর্থের প্রাপ্যতা, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ এবং পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ।

সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ২৪ কোটি টাকা পাওয়ার সুযোগ

মালেক স্পিনিংয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জে এম ফেব্রিকস লিমিটেড ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ সমাপ্ত নয় মাসের অনিরীক্ষিত আর্থিক ফলাফল ও সংরক্ষিত আয়ের ভিত্তিতে ৬০ শতাংশ অন্তর্বর্তী ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। প্রতি ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে এই লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে।

এতে মালেক স্পিনিংয়ের প্রাপ্য অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশের পরিমাণ দাঁড়াবে ২৩ কোটি ৯৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।

সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে এই অর্থ পাওয়া মালেক স্পিনিংয়ের জন্য আর্থিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে এটি মূল কোম্পানির নিজস্ব উৎপাদন কার্যক্রম থেকে অর্জিত মুনাফা নয়। একইভাবে, সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে লভ্যাংশ পাওয়ার অধিকার থাকলেই মালেক স্পিনিং নিজের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য বেশি লভ্যাংশ ঘোষণা করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

নিউএশিয়া সিনথেটিকসে প্রায় ২৪ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা

মালেক স্পিনিংয়ের পরিচালনা পর্ষদ গত ২৪ জুন সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠান নিউএশিয়া সিনথেটিকস লিমিটেডের পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, নিউএশিয়া সিনথেটিকসের পরিশোধিত মূলধন ৬৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯০ কোটি টাকা করা হবে। অর্থাৎ, মূলধন বাড়বে ২৪ কোটি টাকা।

এই মূলধন বৃদ্ধির অংশ হিসেবে মালেক স্পিনিংয়ের জন্য ২৩ কোটি ৮৩ লাখ ৩ হাজার ২০০ টাকার অতিরিক্ত শেয়ার বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন শেয়ারে বিনিয়োগের পরও প্রতিষ্ঠানটিতে মালেক স্পিনিংয়ের মালিকানার হার ৯৯ দশমিক ২৯৩ শতাংশ থাকবে।

কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জমি কেনা, সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ, অন্যান্য কার্যক্রম এবং নিউএশিয়া সিনথেটিকসের দায় পরিশোধে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে। মূল কোম্পানি নিজস্ব তহবিল থেকে শেয়ারের মূল্য পরিশোধ করবে।

নিউএশিয়া সিনথেটিকসের প্রকল্পটি ২০১০ সালের ২৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত মালেক স্পিনিংয়ের বার্ষিক সাধারণ সভায় স্থগিত করা হয়েছিল। টিটাস গ্যাস থেকে সংযোগ না পাওয়ায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন বন্ধ রাখা হয়। তবে কৌশলগত কারণে জমি কেনার প্রয়োজন হয়েছে। কোম্পানির বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে আরও অর্থের প্রয়োজন হতে পারে।

অর্থাৎ, একদিকে সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে লভ্যাংশ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, অন্যদিকে আরেক সহযোগী প্রতিষ্ঠানে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে লভ্যাংশ নির্ধারণের সময় কোম্পানিকে নগদ অর্থের প্রাপ্যতা ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের প্রয়োজন বিবেচনায় নিতে হবে।

দীর্ঘমেয়াদে ‘এএ’ রেটিং, তবে লভ্যাংশের নিশ্চয়তা নয়

ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস পিএলসি (সিআরআইএসএল) মালেক স্পিনিংকে দীর্ঘমেয়াদে ‘এএ’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-২’ রেটিং দিয়েছে। রেটিংয়ের দৃষ্টিভঙ্গি স্থিতিশীল।

২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক তথ্য এবং রেটিং ঘোষণার সময় পর্যন্ত অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য বিবেচনায় নিয়ে এই রেটিং দেওয়া হয়েছে।

এই রেটিং কোম্পানির ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা ও আর্থিক ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা দেয়। তবে রেটিং ভালো হলেই ক্যাশ ডিভিডেন্ড বাড়বে, এমন নয়। লভ্যাংশ নির্ধারণে কোম্পানির প্রকৃত মুনাফা, নগদ অর্থের অবস্থা, বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গত অর্থবছরে ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড

২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য মালেক স্পিনিংয়ের পরিচালনা পর্ষদ সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার সুপারিশ করেছিল।

কোম্পানির তথ্যমতে, সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের হাতে থাকা ১০ কোটি ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ২০০টি শেয়ারের বিপরীতে মোট ১০ কোটি ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ২০০ টাকা লভ্যাংশ দেওয়ার কথা। তবে স্পনসর ও পরিচালকদের হাতে থাকা ৯ কোটি ১৬ লাখ ৪৪ হাজার ৮০০টি শেয়ারের বিপরীতে ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়া হবে না।

চলতি অর্থবছরে লভ্যাংশ বাড়বে কি না, তা জানতে পূর্ণ বছরের নিরীক্ষিত মুনাফা ও নগদ অর্থের অবস্থা দেখতে হবে। নয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় কমে যাওয়ায় লভ্যাংশ বাড়ানোর ক্ষেত্রে চাপ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, পরিচালন নগদ প্রবাহের উন্নতি এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্য লভ্যাংশ কোম্পানির আর্থিক পরিকল্পনায় সহায়ক হতে পারে।

নজর ২৬ অক্টোবরের বোর্ড সভায়

মালেক স্পিনিংয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভা আগামী ২৬ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে।

পূর্ণ বছরের ফলাফলে কোম্পানিটির আয়, মুনাফা ও আর্থিক অবস্থার চূড়ান্ত চিত্র পাওয়া যাবে। বিশেষ করে চতুর্থ প্রান্তিকে কোম্পানির ফলাফল কেমন হয়েছে, তা লভ্যাংশের সম্ভাবনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সব মিলিয়ে, মালেক স্পিনিংয়ের আর্থিক চিত্রে দুই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একদিকে, বিক্রীত পণ্যের ব্যয় বৃদ্ধি ও বিক্রয়মূল্য কমে যাওয়ায় নয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে। অন্যদিকে, পরিচালন নগদ প্রবাহ ও নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে। সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ২৪ কোটি টাকা অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ পাওয়ার সুযোগও রয়েছে।

তবে নিউএশিয়া সিনথেটিকসে নতুন বিনিয়োগের পরিকল্পনা এবং মুনাফার দুর্বলতা লভ্যাংশের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ২০২৬ অর্থবছরে ক্যাশ ডিভিডেন্ড বাড়বে, অপরিবর্তিত থাকবে নাকি কমবে—এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পূর্ণ বছরের নিরীক্ষিত ফলাফল ও পরিচালনা পর্ষদের ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

সর্বশেষ